Public Safety Bill

আসছে বিতর্কিত ‘জননিরাপত্তা’ বিল, ‘গুন্ডা’ তকমায় বিচার ছাড়াই ১ বছর আটক

রাজ্য

কোনও ব্যক্তিকে সমাজের পক্ষে বিপজ্জনক বা ‘গুন্ডা’ বলে চিহ্নিত করলেই তাঁকে এক বছর পর্যন্ত আটক রাখার ক্ষমতা পেতে চলেছে রাজ্য সরকার। পুলিশকে দেওয়া হতে পারে ব্যাপক তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত ও আটক করার অধিকার। এমনই বিতর্কিত বিধান নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টিসোশাল অ্যাক্টিভিটি বিল’। জরুরি অবস্থার ৫১ বছর পূর্তির দিন বিধানসভায় বিধায়কদের মধ্যে বিলের কপি বিলি করা হয়েছে। আগামী সোমবারই বিলটি পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, বৈধ ব্যবসা বা জীবিকায় বাধা দেওয়া, সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, বেআইনি খনি বা বনজ সম্পদ লুটের মতো অভিযোগে কাউকে ‘অ্যান্টিসোশাল’ হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
বিলে ‘গুন্ডা’র সংজ্ঞা বিস্তৃত রাখা হয়েছে। দুষ্কৃতীমূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকা বা তাতে আর্থিক সহায়তা করা, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধে চার্জশিটভুক্ত হওয়া, অস্ত্র আইন, মাদক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন বা বিস্ফোরক পদার্থ আইনে অভিযুক্ত হওয়া, কিংবা প্রশাসনের চোখে সমাজের পক্ষে ‘উগ্র ও বিপজ্জনক’ বলে বিবেচিত হলেই এই আইনে আটক করা যাবে। পুলিশ সুপারের নিচে নন এমন কোনও আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার আটকাদেশ জারি করতে পারবে। সাধারণত গত সাত বছরে অন্তত একবার দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা তিনটি পৃথক ঘটনায় চার্জশিট দাখিল থাকার মতো শর্তও রাখা হয়েছে।
কারা এই ‘অ্যান্টিসোশাল’? বিলে সম্ভবত এই বিষয়ে ৭টি ক্ষেত্র বলা হয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি, ব্যক্তি বা সম্পত্তির জন্য গুরুতর বিপদ ডেকে আনা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য বা জীবিকায় বাধা দেওয়া, বেআইনিভাবে সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতিসাধন এবং খনি, পাথর খাদান, বালি উত্তোলন, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের ক্ষতি করা— এই ধরনের অভিযোগে কাউকে ‘অ্যান্টিসোশাল’ হিসাবে চিহ্নিত করে প্রস্তাবিত আইনের আওতায় আনা যাবে। 
আটক ব্যক্তিকে রাজ্যের জেলে রাখা হবে। প্রথমে ১৫ দিনের জন্য আটক করা গেলেও পরবর্তী অনুমোদনের মাধ্যমে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে সর্বাধিক ১২ মাস পর্যন্ত করা যাবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠন করা হবে। তবে বোর্ডের শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনজীবীর সহায়তা পাবেন না।
সবচেয়ে বিতর্কিত দিক, এই আইনের আওতায় রাজ্য সরকারের অনুমোদিত পুলিশ আধিকারিক যে কোনও জায়গায় তল্লাশি চালাতে, ব্যক্তি বা যানবাহন আটকে অনুসন্ধান করতে এবং অর্থ, নথি বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। পাশাপাশি আইনের অধীনে নেওয়া পদক্ষেপের জন্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথও কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, উত্তর প্রদেশের ‘গ্যাংস্টার আইন’ এবং সংগঠিত অপরাধ দমন আইনের ধাঁচে তৈরি এই বিল নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমনের জন্যই এই আইন প্রয়োজন।

Comments :0

Login to leave a comment