শিলিগুড়ির নাগরিক পরিষেবার বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে এবং বিকল্প পুনর্বাসন না দিয়ে হকার উচ্ছেদ, বস্তিবাসীদের পাট্টা প্রদান ও বস্তি উন্নয়ন, পানীয় জল সমস্যার সমাধান, বিগত তৃণমূল বোর্ডের দেওয়া মিথ্যে প্রতিশ্রুতি এবং শিলিগুড়িবাসীদের বিপদের মুখে ফেলে বোর্ড ছেড়ে মাঝপথে পালিয়ে যাবার বিরুদ্ধে সহ আট দফা দাবিকে সামনে রেখে দার্জিলিঙ জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের কমিশনারের হাতে গণ ডেপুটেশন তুলে দেওয়া হয়েছে। গন ডেপুটেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে থেকে মিছিল বের হয়। মিছিল হাসমিচক, হাসপাতাল মোড়, কোর্ট মোড় ধরে এগিয়ে গিয়ে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের গেটের সামনে শেষ হয়। এরপর কর্পোরেশনের গেটের ঠিক উল্টোদিকে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন নেতৃবৃন্দ।
সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির প্রবীন নেতা জীবেশ সরকার বলেছেন, তৃণমূল আর বিজেপি’র দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরনের জন্য শিলিগুড়ির মানুষ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। পৌর পরিষেবা একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ৪৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলারদের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারেননা একজন কমিশনার ও প্রশাসক। রাজ্য সরকার পরিকল্পনা ছাড়াই শুধুমাত্র নিজেদের আধিপত্য কায়েমের জন্য বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসিয়েছে। এখন ভরা বর্ষার সময়, সামনে দূর্গোৎসব এই সময়ে রাস্তাঘাট, নিকাশী নালা থেকে শুরু করে শহরের যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজকর্ম পৌর সভার পক্ষ থেকে করা হয়ে থাকে। সরকারের পরিবর্তন হয়েছে রাজ্যে। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচিত বোর্ডের আরও আট মাস সময় ছিলো। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর মেয়র থেকে শুরু করে মেয়র পারিষদরা পদত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন। তৃণমূলী কাউন্সিলারবিহীন শহর। সেই সুযোগে বিজেপি কর্তৃত্ব ফলাবার জন্য প্রশাসক বসিয়ে দিলো। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি আধিকারিকরা নিয়মকানুন না মেনে বিজেপি’র কিছু নেতাদের নিয়ে এলাকায় এলাকায় গিয়ে চমক দেওয়া কথাবার্তা বলছেন। হুমকী দিচ্ছেন। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সমঝোতা রয়েছে। নতুন বিজেপি সরকারের হকার ও গরীব বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ, শহরের বেআইনী নির্মান সহ নানা প্রসঙ্গ তুলে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত কর্পোরেশন নির্বাচনের দাবি জানান।
সভা চলাকালীন জেলা বামফ্রন্টের প্রতিনিধিদল কর্পোরেশনের ভেতরে প্রবেশ করে কর্পোরেশনের কমিশনার ভীর বিক্রম রাইয়ের হাতে গন ডেপুটেশন তুলে দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক সমন পাঠক, মুন্সি নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং, জয় চক্রবর্তী, মৌসুমী হাজরা, দীপ্ত কর্মকার, তাপস গোস্বামী ও লক্ষ্মী মাহাতো। স্মারকলিপি দিয়ে বেরিয়ে এসে মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, কমিশনার ডেপুটেশন গ্রহণ করে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে কথা শুনেছেন। দাবিগুলির বাস্তবতা উপলব্ধিতায় এনে মেনে নিয়েছেন। ভয় দেখিয়ে শাসকদলের নেতারা বিকল্প কাউন্সিলারের কাজ করছেন সেই ছবিও তথ্য সহকারে কমিশনারকে দেখানো হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
Left Front Rally
হকার উচ্ছেদ সহ আট দফা দাবিতে দার্জিলিঙ জেলা বামফ্রন্টের গণ ডেপুটেশন
×
Comments :0