জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া করলা গ্রামের সংখ্যালঘু এলাকার সোলেমান সরকার শিশু নিকেতন জিএসএফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা সিপিআই(এম) নেতা শুভ্রালোক দাসকে বদলির চিঠি ধরানো হয়! শুভ্রালোক দাস বামফ্রন্ট প্রার্থীর সমর্থনে দিনহাটা কেন্দ্রে যাতে প্রচারে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে কারণেই কি তাঁকে দিনহাটা শহর থেকে ১২২ কিমি দূরে হলদিবাড়িতে বদলির চিঠি ধরানো হয়েছে! এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে!
সোমবার স্কুলের অভিভাবকদের মধ্যে প্রিয় শিক্ষকের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই অভিভাবকরা স্কুলের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে শিক্ষক বদলির নির্দেশ বাতিলের দাবিতে স্কুলের মাঠে বিক্ষোভ শুরু করে।পড়ুয়ারা স্কুলের বারান্দায় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি করে মানব বন্ধন। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকপত্র দিয়ে দাবি করা হয়, যে শিক্ষককে অন্যায় ভাবে বদলি করা হয়েছে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও প্রধান শিক্ষক সেই স্মারকলিপি গ্রহণ না করে আন্দোলকারী অভিভাবকদের সাথে স্কুলের সার্কেল ইন্সপেক্টরের সাথে মোবাইলে কথা বলিয়ে দেন।
এদিন অভিভাবকদের পক্ষে সিরাজুল মিয়া, তহমিনা বিবি-রা বলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি বদলি করা শিক্ষককে রিলিজ অর্ডার দেবেন না।
আরেক অভিভাবক সাকিল হোসেন বলেন, ছায়েদ আলী, আমিনা খাতুনেরা অভিযোগ করেন, এই স্কুলে ১১৪ জন পড়ুয়া আছে। সংখ্যালঘু এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার একমাত্র স্কুল এটিই। এখানে ৪ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক ছাড়া বদলি হওয়া শুভ্রালোক দাস বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন। একজন স্টপ গ্যাপ শিক্ষক আসেন। আমরা জানি যে শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে তিনি বামপন্থী রাজনীতি করেন। আর এটাও সত্যি উনি শিক্ষক হিসাবে একজন আদর্শ শিক্ষক। স্কুলে এসে কখনোই উনি রাজনীতি করেন না। তাই আমরা চাই না উনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হোক। আর আমাদের বাচ্চাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হোক।
এদিন স্কুলে কোন পঠন- পাঠন হয় নি। যে শিক্ষকের বদলি রুখতে অভিভাবকরা আন্দোলনে নেমেছেন, সেই শিক্ষক শুভ্রালোক দাস এদিন সাংবাদিকদের বলেন, এদিন অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে ক্লাসরুম খোলা যায় নি। তবে বারান্দাতেই পড়ুয়াদের প্রেয়ার লাইন করিয়েছি। ওদের কিছুটা পড়ানোর চেষ্টাও করেছি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসেন বলেন, আমাদের স্কুলে ১১৪ জন পড়ুয়া। প্রতিদিন গড়ে ৯০-৯৫ জন পড়ুয়া স্কুলে আসে। এদিন অভিভাবরা আমার সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিতে চাইলে আমি এসআই ওয়াইদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলিয়ে দিই। এসআই প্রতিশ্রুতি দেন বুধবার তিনি স্কুলে এসে স্মারকলিপি নেবেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবেন। এই আশ্বাসের পর অভিভাবকেরা বিক্ষোভ তুলে নেন।
এদিন শুভ্রালোক দাস সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি একজন শিক্ষক হিসেবে কি রকম সেটা অভিভাবক ও পড়ুয়ারাই ভালো বলতে পারবে। আর কি কারণে এই বদলির চিঠি ধরানো হয়েছে সেটাও অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা বুঝে গেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে আমি নিজে কিছুই বলবো না। শুধু বলবো আমি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।
Dinhatta
হারের আতঙ্কে বামপন্থী শিক্ষককে বদলি দিনহাটার উদয়নের
×
Comments :0