বাদল অধিবেশনের কার্য তালিকায় নেই, তবুও আগামী ১৩ আগস্ট বর্তমান বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পর, নরেন্দ্র মোদী সরকার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের একটি ৩ দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা করছে। বুধবার জানা গেছে, সংসদের বিশেষ অধিবেশনটি ১৬ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাস করার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, সরকারপক্ষের লক্ষ্য, চলতি বাদল অধিবেশনেই ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানো।
বিলটি পাস করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা সরকারের হাতে চলে এলে, তারা সংবিধান সংশোধনী বিলটি আলোচনা ও পাস করার জন্য সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আলোচনা ও পাস করার আগে, কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে চলা অচলাবস্থা ভাঙতে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। বুধবার সকালে, কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিটের একটি বৈঠক করেন। বৈঠক চলাকালীন, রিজিজু প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বিল এবং বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন বিষয়ে রাহুল গান্ধীর মতামত জানতে চান। সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধী রিজিজুকে বলেন যে বিরোধী দল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করছে না, বরং তারা জোর দিচ্ছে যে সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ চলাকালে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের মতো অচলাবস্থার বিষয়ে তিনি সংসদে একটি বিবৃতি দিন। সরকার কংগ্রেসকে জানিয়েছে যে তারা সীমানা নির্ধারণ বিলের ওপর আগামী ১৬, ১৭ এবং ১৮ জানুয়ারি সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে চায়। বিজেপি সরকারের এই প্রস্তাবের বিষয়ে রাহুল গান্ধী জানিয়েছে, তাদের জানানোর আগে তারা নিজেদের এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। সূত্র থেকে জানা গেছে, রাহুল গান্ধী এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাক্ষাৎ করে সীমানা নির্ধারণ বিল নিয়ে আলোচনায় রাহুল গান্ধী দুটি দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অমিত শাহের বিবৃতি এবং অনুদান চুরির বিষয়ে আলোচনা না করে অধিবেশন এগোবে না। কংগ্রেস শীঘ্রই সীমানা নির্ধারণ বিলের বিষয়ে সরকারের কাছে তাদের অবস্থান জানাবে।
২০১১-র জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসে করা হলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮৫০টি। এতে বড় ব্যবধানে উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, এবং মহারাষ্ট্রে আসন সংখ্যা বাড়ছে। উত্তর প্রদেশের আসন ৮০ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১৪০, বিহারের আসন ৪০ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৭০টি। রাজস্থানের আসন ২৫ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৪৮ এবং মধ্য প্রদেশের আসন ২৯ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৫১। তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যের আসন সংখ্যা খুব একটা বাড়ছে না। কেরালার আসন ২০ থেকে বেড়ে হচ্ছে ২৩, তামিলনাডুর আসন ৩৯ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৫১। অন্ধ্র এবং তেলেঙ্গানার আসন ৪২ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৫৯। ওডিশার আসন সংখ্যা ২১ থেকে বেড়ে হচ্ছে ২৯। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের আসন সংখ্যা ৪২ থেকে বেড়ে ৬৪ হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাসে সরাসরি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির লাভ তুলছে, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব বহুগুন বাড়ছে।
লোকসভায় এই সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করতে বিজেপি জোটের ৩৬০ ভোট প্রয়োজন। অন্যদিকে রাজ্যসভায় প্রয়োজন ১৬৩ ভোট। এতে বিজেপি জোটের লোকসভায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ৬৭ সাংসদ কম রয়েছে। রাজ্যসভায় ২১ সাংসদ কম রয়েছে।
বর্তমানে, বিশেষ অধিবেশনর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে, রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে এবং মনে করা হচ্ছে যে, প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া গেলে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশন করা হতে পারে, যেখানে সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং মহিলা সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
Parliament Special Session
ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানোর লক্ষ্যে বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তাব কেন্দ্রের
×
Comments :0