অভীক-বিরূপাক্ষরা নেই। কিন্তু থ্রেট কালচার আছে। অভীক-বিরুপক্ষদের জায়গায় অন্যরা আছে।
রবিবার কলকাতার মেডিক্যাল কলেজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেছেন খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখার্জি। জুনিয়র ডাক্তারদের অভিযোগ ছিল বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও থ্রেট কালচার রয়েছে। এই অভিযোগ কার্যত মেনেই নিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেছেন, নতুন করে থ্রেট কালচারের জন্ম দেবেন না। তিনি জানিয়েছেন যে ওষুধ ইনজেকশন হাসপাতালের স্টকে আছে। তবে চোরবাগানের ঘটনার দিন এমার্জেন্সিতে তা ছিল না কেন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রবিবার, ২৫ অক্টোবরই, ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডকটর্স ফ্রন্ট, অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস, চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চ জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস সহ বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের সংগঠন একত্রে কলকাতা মেডিকেল কলেজে সাংবাদিক সম্মেলন করে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দেন জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস’র যৌথ আহ্বায়ক ডাঃ হীরালাল কোনার ও ডাঃ পুন্যব্রত গুণ। এছাড়া ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস-এর অধ্যাপক ডাঃ অরিন্দম ভট্টাচার্য, অধ্যাপক ডাঃ অনুপ রায়। জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন ডাঃ দেবাশিস হালদার সহ অন্যরা।
গত ১৭ অক্টোবর, কাছেই চোরবাগানে মন্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় আহতদের এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক অভিযোগ করেছিলেন সেদিন। তাঁরা বলেছিলেন, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, ইনজেকশন সহ সরঞ্জাম নেই। পরে মুখ্যমন্ত্রী ওই জুনিয়র ডাক্তারদের সে সময়ে কাজের দায়িত্ব ছিল কিনা তা দেখার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে। ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "আমরা চিহ্নিত করব যে যারা ওখানে প্রেস করছিলেন তাঁদের মধ্যে কারও ওই সময় ডিউটি ছিল কিনা। যদি ডিউটি থাকে তাহলে রুলবুক অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট-র তরফে ডাঃ দেবাশিস হালদার বলেছেন, ‘‘ওই সময় যাঁদের ডিউটি ছিল তারা ছাড়াও হস্টেল থেকে অনেক জুনিয়র ডাক্তার এবং পিজিটি-রা তারা চলে এসেছেন। তাঁরা ছুটে এসেছিলেন একটি আপৎকালীন অবস্থাকে সামাল দিতে। এই সময় পরিকাঠামোগত যদি কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে তা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকলের সামনে আনা জুনিয়ার ডাক্তারদের দায়িত্ব। তারা তা-ই করেছেন। এতে কোনও ভুল নেই।"
অধ্যাপক ডাঃ অনুপ রায় বলেছেন, "পরিকাঠামোর ঘাটতি বরাবরই ছিল চিকিৎসা ক্ষেত্রে। আগে সরকার সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কাজ করতো। শেষ ১৫ বছরে একাধিক দুর্নীতি অভিযোগ সামনে এসেছে তার বিরুদ্ধে ডাক্তাররা যৌথভাবে আন্দোলনও করেছেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘ডেপুটেশন বা বিভিন্ন সংগঠনের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করতে হয়। সপ্তমীর দিন জুনিয়র ডাক্তাররা ঠিক সেই কাজই করেছেন। সরকার এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের উচিত কী কী গাফিলতি রয়েছে, কোন কোন পরিকাঠামোর উন্নতি করা যায়, তার দিকে নজর দেওয়া। তার বদলে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রীর যা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল তা অত্যন্ত দুঃখের।"
এদিনই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে মাদার এন্ড চাইল্ড হাবে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের লোকের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে সন্তানের। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি এবং জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে বলেছেন, "যে ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়েছে তা সংরক্ষণ করে রেখেছে পুলিশ। দেহের ময়নাতদন্ত করেই বোঝা যাবে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে। ওষুধের ফলে কোন রিঅ্যাকশন হয়েছে কিনা তা আমরা সমস্ত পরীক্ষা করব।"
সাংবাদিক সম্মেলনে জুনিয়র ডাক্তাররা অভিযোগ করেন, পরিকাঠামোর উন্নতি করতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এই কথা মেনেও নিয়েছেন রাজ্যের বিজেপি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘‘শেষ ১৫ বছর তার আগে ৩৪ বছর যা অবস্থা ছিল সেই অবস্থা থেকে পুনর্গঠন করা পাঁচ মাসে সম্ভব নয়। হাসপাতাল সাজানোর জন্য সব রকম পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঢেলে সাজানো হবে স্বাস্থ্য ক্ষেত্র।’’
এদিন জুনিয়র ডাক্তারদের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। এনআরএস, ন্যাশনাল মেডিক্যাল সহ একাধিক মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি বিভাগের তালিকা দেন তাঁরা। সেখানে দেখা যাচ্ছে একাধিক ওষুধ, ইনজেকশন নেই।
কিন্তু এই অভিযোগ মানতে চাননি স্বাস্থ্য মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘‘দুর্ঘটনার দিনও সমস্ত ওষুধ ইনজেকশন স্টকে ছিল। কিন্তু এমার্জেন্সি বিভাগে ছিল না কেন তার প্রশাসনিক তদন্ত করা হবে।’’
রবিবার মেডিক্যাল কলেজে ডাঃ শারদ্বত মুখার্জি।
Comments :0