Jyoti Basu on Left Front Govt

রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে সরকার চালাতে চাই না

সম্পাদকীয় বিভাগ

জ্যোতি বসু

বামফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত দলগুলি বিগত সাধারণ নির্বাচনের আগেই পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বর্তমান শাসন কাঠামোর মধ্যে এ রাজ্যে কোনও বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও তা এরাজ্যের মৌল সমস্যাবলীর কোনও সমাধান করতে পারবে না। কিন্তু একথাও তাঁরা দৃঢ়তার সঙ্গেই ঘোষণা করেছিলেন যে, এই সীমাবদ্ধ চৌহদ্দির মধ্যে থেকেও জনসাধারণের জন্য কাজ করা সম্ভব। 
পশ্চিমবঙ্গের সমস্যার দিকে আমরা যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাবো যে, প্রায় ২০০ বছর ধরে ইংরাজ শাসকদের শাসনাধীন থাকার ফলে এই রা‍‌জ্যে বিত্ত-সম্পদ সবই নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। স্বাধীনতা লাভের পর ৩০ বছর ধরে যে দলটি একাদিক্রমে কেন্দ্রে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল, তাদের অনুসৃত নীতির ফলে এ রাজ্যের সঙ্কট তথা সমগ্র দেশের সঙ্কট কিছুমাত্র কমেনি বরং বেড়েছে। এখন এই রাজ্যের দিকে তাকিয়ে দেখলে দেখবো যে, সর্বত্রই একটা অভাব, দারিদ্র আর শ্রীহীনতার ছাপ। আমাদের রাজ্যের জনসংখ্যা সারাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮ ভাগের সামান্য বেশি।। অথচ কর্মনিয়োগ কেন্দ্রগুলিতে তালিকাভুক্ত কর্মপ্রার্থীদের শতকরা ১৭ ভাগই কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের। রাজ্যের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যময় শিল্পগুলির দুর্দশা বর্ণনার অতীত, নতুন শিল্প বড় একটা গড়ে ওঠেনি। বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাটা পড়েছে। অন্যদিকে, সঞ্চয়ে অনটন ঘটায় পরিকল্পনা কাটছাঁট করা শুরু হয়েছে এবং তার ফলে সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্র ক্রমশ ক্ষীয়মাণ হয়ে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের কিছু শিল্পসংস্থা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছু কিছু এখন বন্ধ হওয়ার মুখে। হাজার হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলেও প্রায় একই চিত্র। সেখানেও নতুন এক শোষক শ্রেণির উদ্ভব হয়েছে। রাজ্যের কৃষিজীবী সম্প্রদায়ের প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ বর্তমানে ভূমিহীন। ছোট চাষি ও ভাগচাষিদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। ভূমিসংস্কার বলতে কার্যত এখনও কিছু করা হয়নি। প্রথম এবং দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে যতটুকু প্রচেষ্টা হয়েছিল, তাও বাধাপ্রাপ্ত হয় নানাবিধ চক্রান্ত এবং ওই দুই সরকারের অসময়ের পতনের ফলে। শিল্পের উৎপাদন বাড়ছে না এবং কৃষির উৎপাদনও বাড়ছে না। শহরের বেকার সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে গ্রামের বেকার সংখ্যা। অথচ শহর ও গ্রামের একদল মানুষ এই অবস্থার মধ্যেও পুঁজিবাদ ও শাসন শোষণের সমস্ত সুবিধাটুকু আহরণ করে ঐশ্বর্য ও সম্পদে স্ফীত থেকে স্ফীততর হয়ে উঠছে। জিনিসপত্রের দর বাড়ছে। বাড়ছে পরিবহণের সঙ্কট। সুরাহা হচ্ছে না বিদ্যুৎ সঙ্কটের।
এর যে কোনও সমস্যার দিকে তাকান, তাকে অন্তত আংশিকভাবে সমাধান করতে হলেও স্বল্পমেয়াদি যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার তার জন্য প্রয়োজন কোটি কোটি টাকার, কিন্তু কোথায় সে অর্থ? বিপুল পরিমাণ ঘাটতি বাজেট নিয়ে আমাদের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সমস্যাবলীর মোকাবিলা করা খুবই কঠিন ও দুরূহ এক কাজ, তা আশা করি সকলেই স্বীকার করবেন।
সমস্যাগুলির ব্যাপকতা এবং পূর্বতন কংগ্রেস সরকারগুলি আমাদের যে দায় চাপিয়ে গেছে তা সমাধান করা কঠিন।  সবদিকেই দেখছি নানারকম সমস্যা। বছরের পর বছর ধরে এইসব ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কোনও প্রচেষ্টাই করা হয়নি। অতীতের এই দায়গুলি আমাদের বহন করে চলতে হচ্ছে। 
ধরা যাক গ্রামাঞ্চলের কথা। আমাদের এই রাজ্যে মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১ কোটি ৩৬ লক্ষ একর। একটা হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে যে, মোট কৃষিজমির শতকরা ৪ভাগ মাত্র জমি—২৪ বছর ধরে পুনর্বণ্টন করা সম্ভব হয়েছে। ভূমিসংস্কারের প্রধান লক্ষ্য হলো মুষ্টিমেয় অকৃষক মালিকের হাতে যে বিপুল পরিমাণ জমি কেন্দ্রীভূত হয়েছে তা সরকারিভাবে ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা। এই হিসাব থেকে দেখছি বিগত দুই দশকের অধিককাল সময় ভূমিসংস্কারের প্রাথমিক লক্ষ্যই পূরণ করা হয়নি। অন্যদিকে, তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে যে, আমাদের এই রাজ্যেই প্রায় ২০ লক্ষ পরিবার ভূমিহীন খেতমজুর হিসাবে কাজ করে এবং আরও ১৫ লক্ষ পরিবার ০.৫ হেক্টরের কম জমি চাষ করে। কাজেই এই ৩৫ লক্ষ ভূমিহীন ও প্রান্তিকচাষী পরিবারের ভূমির চাহিদা স্বীকার করতেই হবে। প্রত্যেক পরিবারকে যদি এক একর করেও জমি দিতে হয় তবে প্রয়োজন ৩৫ লক্ষ একর জমির। সেখানে মাত্র ৬ লক্ষ ২৫ হাজার একর জমি বিলি হয়েছে। জমির চাহিদা ও জোগানের তুলনামূলক বিচার করলে দেখা যাবে এই দুয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য এত বেশি যে, বিগত ২৪ বছরে প্রাক্তন সরকার ভূমিসংস্কারের কাজে যে ব্যর্থ হয়েছে— এ কথা তর্কাতীতভাবে প্রমাণ হয়ে যায়। এর সঙ্গে আমরা যদি বিচার করি, মাত্র শতকরা ৪ জন চাষির হাতে মোট কৃষিজমির সিংহভাগ (২৯.৬ ভাগ) রয়েছে তখন আমাদের পক্ষে এই সিদ্ধান্তে আসা সহজ যে, জমিদারি ও ভূমিসংস্কার আইনের মাধ্যমে আমাদের রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর যে পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করা হয়েছিল তা কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। স্পষ্টতই বর্তমান ভূমিসংস্কার ব্যবস্থায় দু’টি পরস্পরবিরোধী সমস্যার উদ্ভব হয়েছে— একদিকে অল্পসংখ্যক কিছু জমির মালিকদের হাতে বেশিরভাগ জমির দখল কায়েম রয়েছে, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ ভূমিহীন ও গরিব কৃষকদের ভূমির চাহিদা মেটেনি। ফলে যে কোনও শর্তে এক টুকরো জমির জন্য ভূমিহীন চাষিরা জমির মালিকদের উপর একান্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতবড় বিপুল সমস্যাকে রাতারাতি কেউ সমাধান করে দিতে পারে না। বড় বড় জমির মালিকরা ঊর্ধ্বসীমার উপরেও যে জমি বেআইনিভাবে কুক্ষিগত করে রেখেছেন সেই উদ্বৃত্ত জমিকে খুঁজে বের করা এবং লক্ষ লক্ষ খেতমজুর বর্গাদারদের মতো তা বণ্টন করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য ও আদর্শ। কিন্তু এ কাজও যে খুব সহজে করা যাবে না তাও বোধ করি সকলেরই বোধগম্য। 
শিক্ষাক্ষেত্রে তাকালে দেখবো সেখানেও চলছে একই নৈরাজ্য। সমস্যার পর সমস্যা সেখানে এত বছর ধরেই জমে উঠেছে। কংগ্রেসী শাসকরা তার জট খোলবার কোনও চেষ্টাই করেননি। সাক্ষরতার দিক ‍‌দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্থান আজ অনেকগুলির রাজ্যের স্থানের নিচে। পশ্চিমবঙ্গের সাক্ষরতার হার ১৯৭১ সাল অবধি ৪০.৫১। পশ্চিমবঙ্গের উপর আছে কেরালা, তামিলনাডু, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট। কি শোচনীয় অবস্থা ভাবুন। 
যে বাঙালি একদিন শিক্ষা ও সংস্কৃতির গর্ব করতো, তাদের রাজ্যেই নিরক্ষরের সংখ্যা এখনও অর্ধেকের বেশি। বিগত সরকার, যা ছিল কংগ্রেসের দ্বারা পরিচালিত, শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতি, নিপীড়ন এবং অব্যবস্থার একটা ক্ষেত্র হিসাবে বেছে নিয়েছিল। এর ফলে শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিটি স্তরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র এক অসন্তোষ এবং ক্ষোভের পাহাড়। কি উচ্চ, কি মাধ্যমিক, কি প্রাথমিক শিক্ষায় যে কোনও স্তরেই চরম এক অব্যবস্থা গত কয়েক বছর যাবৎ অব্যাহত গতিতে চলে আসছে। এর জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে মধ্যশিক্ষার ক্ষেত্রে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে বাতিল করে‍‌ছি এবং এর দায়িত্বভার অর্পণ করেছি প্রবীণ শিক্ষাব্রতী সত্যপ্রিয় রায়ের হাতে। পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে যে অব্যবস্থা চলছে, গণটোকাটুকির যে ব্যবস্থা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে তার বিরুদ্ধে কঠোর এবং দৃঢ় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। কিন্তু এতেও সময়ের প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলির মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা দীর্ঘকাল অবহেলিত।
গ্রামাঞ্চলে পানীয় জলের সমস্যা একটা বিরাট সমস্যা। খরার সময় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর এবং পার্বত্য জেলাতে মানুষগুলি জলাভাবে কি ভয়ানক কষ্ট পান তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু এ সম্পর্কে বিশেষ কিছুই করা হয়নি। ১৯৭৫ সালের হিসাব অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের ৮ হাজার ৯৪০টি গ্রামে বিশুদ্ধ পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। ১৭টি পৌরসভায় এখনও পর্যন্ত পাইপের সাহায্যে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা যায়নি। রোগের প্রতিষেধক ব্যবস্থার দিকেও বিগত ২৫ বছরে এ রাজ্যে বি‍‌শেষ কিছুই করা হয়নি। হাসপাতালগুলির উন্নতির জন্য কোনও প্রচেষ্টাই হয়নি এ পর্যন্ত। কেবল ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচারই হয়েছে। এককথায় বলতে গেলে জনসাধারণের স্বাস্থ্যের উন্নতির ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছুই করা হয়নি। এর যে কোনোটিতে হাত দিতে গেলে দরকার বিপুল অর্থের, আর কিছু সময়ের। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের আর্থিক এই সীমিত অবস্থার মধ্যে সব সমস্যাগুলির দিকে দৃষ্টি দিতে পারেনি। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং যাবোও।
জিনিসপত্রের দর বাড়ছে এবং সেটা যে জনসাধারণের জীবনে চরম এক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে, সে সম্বন্ধে আমরা সবি‍‌শেষ সচেতন। কিন্তু আপনারা সকলেই জানেন, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় এর সমাধান সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও রেখেছি। আমরা আশা রাখি যে, সেগুলি কার্যকর করা সম্ভব হলে এ বিষয়েও কিছু ফল পাওয়া যাবে। রাজ্য সরকারও অবশ্যই এ ব্যাপারে তার প্রয়োজনীয় কর্তব্য পালন করে যাবেন।
এই কয়েকটি সমস্যার কথা বলে শুধু এই কথাটাই বোঝাতে চাইছি যে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা শুধু একটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। সবদিকেই তা ছড়িয়ে পড়েছে। তার ব্যাপকতা ও গভীরতাও বিরাট। তাছাড়া আমাদের সামনে বাধা অনেক। আমাদের বিরুদ্ধে চলছে নানা ধরনের চক্রান্ত এবং অপপ্রচার। তবু আমরা আশা রাখি যে, জনসাধারণের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে আমরা আমাদের এই সীমিত ক্ষমতা নিয়েই এইসব সমস্যার সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালাবো। আমরা বারবার ঘোষণা করেছি এবং আবার বলছি যে, আমরা শুধু রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে শাসন ক্ষমতা চালাতে চাই না। আমরা সাধারণ মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে এবং তাঁদের পরামর্শ শুনে এ রাজ্যের শাসন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি যে, তাঁদের সাহায্য এবং সহযোগিতা পেলে আমাদের এই ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেই আমরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য এবং জনসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য কিছু না কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সমর্থ হব।
পরিশেষে আবার বলি সমস্যা বিপুল। সমাধানের ঐকান্তিকতাও আমাদের প্রবল। ইতোমধ্যেই প্রশাসনের স্বাভাবিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কর্মচারীদের উপর দমনপীড়ন বন্ধ করা হয়েছে। একদা বলপূর্বক অপসারিত কর্মচারীদের কর্মে পুনর্বহাল করা হয়েছে। কর্মস্থল থেকে বিতাড়িত প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুনর্বহালের জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়গু‍‌লিতে তাঁদের পুনর্বহালের কাজ চলছে।
রাজ্যের পৌরসভাগুলি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে পুনরায় তুলে দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি।
শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলিতে পুলিশের অহেতুক হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় গণতান্ত্রিক গণআন্দোলন দমনপীড়ন থেকে মুক্ত হতে পেরেছে। বন্ধ কারখানা কিছু কিছু খুলতে আরম্ভ করেছে। কর্মচ্যুত শ্রমিকরাও কিছু কিছু কাজ পেয়েছেন। 
রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির ক্ষেত্রে এ রাজ্যে আমরা সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। সমাজবিরোধীদের দমন করবার কাজে কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়েছে।
সরকার পরিচালনার ভার গ্রহণ করবার পর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন আমাদের হতে হয়। সমগ্র রাজ্যজুড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসংখ্য দুর্গত নর-নারীর মধ্যে ত্রাণকার্য চালাতে হয়। সীমিত সহায়-সম্বল নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত ত্রাণকার্য আমাদের রাজ্যের মানুষ এবারই প্রত্যক্ষ করতে পেরেছেন।
এই অল্প ক’মাসের মধ্যেই সংগ্রামী মানুষ বিপর্যস্ত জীবনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নৈরাশ্য থেকে মুক্ত হয়ে নতুন আশায় আবার মাথা তুলছেন। তাঁরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন বামপন্থী ফ্রন্ট সরকার সাধারণ মানুষের কোনও ক্ষতি করবে না। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, সমগ্র ভারতের সংগ্রামী জনগণের সামনে বামপন্থী ফ্রন্ট সরকার নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে।
আমরা কি করেছি তার বিবরণ দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। ভবিষ্যতে সে বিবরণ নিশ্চয়ই দেব, কারণ মানুষের কাছে আমরা কিছুই গোপন করবো না, পূর্ববর্তী শাসকদের ন্যায় তথ্যকে বিকৃত করবো না।
আমাদের সাফল্য, আমাদের অক্ষমতা, আমাদের সীমাবদ্ধ ক্ষমতা ইত্যাদি সকল বিষয়ই আমরা মানুষের সামনে তুলে ধরবো। আমরা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করি, মানুষের সেবার জন্য ‍ যে দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি তা পালনের জন্য আমাদের বহু আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করতে হবে। কারণ ফুল বিছানো পথ আমাদের জন্য নয়। তাই যাত্রাপথে চলার অবিরাম গতির মধ্যে আমাদের শিখতেও হবে অনেক কিছুই।

Comments :0

Login to leave a comment