Khalsi Village In Hooghly

অস্তিত্ব সংকটে হুগলি জেলার খলসী গ্রাম

জেলা

সরকারি খাতায় গ্রামের নাম তোলার দাবিতে গ্রামবাসীদের মিছিল।

অভীক ঘোষ: হুগলি

গ্রাম আছে, গ্রামবাসীরাও আছেন, অথচ সরকারি খাতায় গ্রামের অস্তিত্ব নেই! জনগণনা শুরু হতে সেই অস্তিত্ব সংকটে হুগলি জেলার খলসী গ্রাম। হুগলি জেলার চুঁচুড়া-মগড়া ব্লকের হোয়েরা দিগসুই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮ টি গ্রাম আছে। তার মধ্যে একটি গ্রাম হল ‘খলসী’। এই গ্রামের বাসিন্দা প্রায় দুই হাজার ২০০। ভোটার ১ হাজার দুইশো। পঞ্চায়েতের বাকি ১৭ টি গ্রামের সেনসাস কোড আছে। সরকারি খাতায় নাম আছে। নেই শুধু খলসী গ্রামের নাম। যার ফলে সরকারি কাজ, জন্মের শংসাপত্র, আধার কার্ডে নিজের গ্রামের নাম তুলতে পারেননা গ্রামবাসীরা। চিঠি পার্সেল এলে তা এক কিলোমিটার দূরে দিগসুই গ্রামের ঠিকানায় আসে। অনেক সময় তা ফিরেও যায়। এখন জনগণনা শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে স্ব-গণনার কাজ চলছে। সেই কাজ করতে গিয়ে সেনসাস পোর্টালে নিজের গ্রামের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না খলসী গ্রামের বাসিন্দারা। এরপরই গ্রামের সবাই মিলে সরকারি মহলে এই বিষয় নিয়ে চিঠি দিয়ে আবেদন করেন। গ্রাম পোস্ট থানা জেলা পিনকোড দিয়ে যে ঠিকানা লেখা হয় সেই ঠিকানায় সরকারি রেকর্ডে খলসী গ্রাম না থাকায় নিজের গ্রামের নাম সরকারি জায়গায় তুলতে বিডিও এসডিও ডিএম থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন গ্রামবাসীরা। 
খলসী গ্রামের বাসিন্দা অমিতাভ, অপূর্ব, প্রশান্ত ঘোষরা জানালেন, ঠিকানায় পিন কোড দেখে গ্রামের নাম খুঁজে না পেয়ে অনেক সময় চিঠিপত্র ফিরে চলে যায়। চিঠি এসেছে জানতে পারলে পাশের গ্রাম থেকে নিয়ে আসতে হয়। সরকারি পোর্টাল থেকে আমাদের গ্রামের নাম পুরোপুরি বাদ হয়ে গেছে। আমরা বেশ কিছুদিন আগেই বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসন সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। ভোটার কার্ড নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল সেটাকে মেটানো হয়েছিল। আবার সেন্সাস শুরু হয়েছে দেখা যাচ্ছে আমাদের গ্রামের নাম নেই পাশের গ্রাম দিগসুই এ আমাদের গ্রামকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য যে গ্রামে তারা বসবাস করেন সেই গ্রামকে কখনও পাড়া, কখনও রাস্তা, কখনও কোনও বিল্ডিং’র নামে পরিচিত হতে হচ্ছে। গ্রামবাসীরা চাইছেন জনগণনার কাজ যখন শুরু হয়েছে তাদের গ্রামের নামে সরকারি শিলমোহর পড়ুক।’’
অপূর্ব ঘোষ জানালেন, তাঁর সন্তান আট মাস আগে চুঁচুড়া হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করে। তার জন্মের শংসাপত্র দেওয়ার খলসী গ্রামের নাম আসছে না দেখা যায়। এরপরই আমরা খোঁজ খবর করি। যতক্ষণ না সরকারি পোর্টালে স্বতন্ত্র গ্রাম হিসেবে খলসীকে দেখানো হচ্ছে ততক্ষণ এই সমস্যা চলবে।’’ গ্রামবাসীদের বক্তব্য হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা কোন গ্রাম নয় তা সত্যেও খলসী গ্রামের অস্তিত্ব সরকারি জায়গায় নেই কেন সেটাই প্রশ্ন।
হুগলি জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদরী বলেন, ‘‘ম্যাপ নিয়ে সমস্যা আছে। একটা প্রযুক্তিগত ত্রুটি আছে। ওই গ্রামকে ম্যাপিং করতে হবে। এই বিষয়ে ডাইরেক্টর সেনসাসকে জানানো হয়েছে। হয়ে যাবে।’’

Comments :0

Login to leave a comment