লাগাতার ভারি বৃষ্টির জেরে সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ভূমিধস নামছেই। আর ভূমিধসের কারণেই বন্ধ রয়েছে একাধিক পাহাড়ি রাস্তা। টানা বৃষ্টিতে মঙ্গলবার সকালে আচমকাই পূর্ব সিকিমের পাকিয়ং জেলায় রংপো রোরথাং সড়কে পাঁচমাইলরেশী এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভয়াবহ ভূমিধস নেমে আসে। প্রবল বেগে পাহাড়ের গা বেয়ে গাছগাছালি, বিশালাকারের পাথরের চাঁই মাটি ধসে পড়ার কারণে ওই সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়। চোখের নিমেষেই গোটা এলাকায় ভূমিধসের স্তূপে ঢেকে যায়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন সেই সময় ওই সড়কে কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মী। ভূমিধস নজরে আসতেই এলাকা থেকে দৌঁড়ে সরে যান ওই পুলিশ কর্মী। ধসে চাপা পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায় পুলিশ কর্মীর বাইকটি। বড় ধরনের ভূমিধস নামার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ঘটনায় হতাহতের কোন খবর নেই। ভূমিধসের ঘটনায় রাস্তাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সিকিমের রাস্তাঘাট বিপদসঙ্কুল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে সিকিমের বাসিন্দাদের অযথা পাহাড়ি রাস্তাঘাটে বের না হবার আবেদন জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। সিকিম পুলিশের ২৩ জুনের রোড সিচুয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গেছে, বিভিন্ন সড়কে ধসের কারণে যানচলাচল ব্যাহত রয়েছে। গ্যাঙটক, সিংতাম, দিকচু সড়কে কিছু অংশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নামচি জেলার বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ রয়েছে ধসের কারণে। যদিও এনএইচ ১০ সচল রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সিকিমের রংপো রোরথাং সড়ক আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সময়ে যানচালকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাস্তা থেকে ধস সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে ধস সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। শুধু তাই নয়, পাহাড়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশিকা সঠিকভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, সিকিম সহ উত্তরবঙ্গের পাহাড় সমতলে গত কয়েকদিন ধরে চলা বৃষ্টি পরিস্থিতির এখনই কোন উন্নতি হবার সম্ভাবনা নেই। ধস প্রবন এলাকাগুলিতে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলি পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছে। প্রবল বর্ষণে উত্তরের সমস্ত নদীতেই জলস্ফীতি ঘটেছে। ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তাব্যারেজ ও শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ি ব্যারেজের লকগেট নির্দিষ্ট সময় অন্তর খুলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক মেরামতির কাজ অনেকাংশেই শেষের দিকে। সিকিমের তুলনায় দার্জিলিঙ ও কালিম্পঙের অবস্থা অনেকেটাই স্বাভাবিক। তিস্তাবাজার লাগোয়া এলাকাগুলিতে জল উঠলেও বৃষ্টি কমতেই জল নেমে যাচ্ছে।
পাহাড় সমতলে বৃষ্টি ধস জনিত পরিস্থিতিতে পর্যটকদের সংখ্যাও অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল। তিনি জানান, ‘‘বাংলা সিকিম লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক অচল থাকলে, সেক্ষেত্রে সিকিমের রংপো রোরথাঙ সড়ক দিয়ে যান চলাচল করে থাকে। কিন্তু সেই সড়কে ধস নামায় ওই রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও সিকিম প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ধস সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। দার্জিলিঙের দুধিয়া সেতু বাদে সমস্ত রাস্তা দিয়েই যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
Landslides in Sikkim
ভূমিধস অব্যাহত সিকিমে, বন্ধ একাধিক পাহাড়ি রাস্তা
×
Comments :0