Left Student Organisations Called for Struggle to Save Education

শিক্ষার ওপর ফ্যাসিবাদী থাবা, প্রতিরোধের আহ্বান বামপন্থী ছাত্রদের

কলকাতা

মঙ্গলবার কলকাতার রামমোহন হলে আইসা-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরাকে সংবর্ধনায় এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী, কলকাতা জেলা সভাপতি হাসিব-সহ অন্যারা।

 ফ্যাসিবাদের হামলা শিক্ষা থেকে গণতন্ত্রে, রক্ষা করতে হবে শিক্ষা, সংবিধান ও সাংবিধানিক অধিকারকে। গড়তে হবে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার কলকাতার রামমোহন হলে এই আহ্বান জানিয়েছে বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি। আইসা ও আরওয়াইএ-র উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার বেসরকারিকরণ, পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন আইসা-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা, এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী, এআইডিএসও রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস ঘোষ, অভয়া আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার এবং এসএসসি ২০১৬-র যোগ্য চাকরিহারা আন্দোলনের অন্যতম মুখ মেহবুব মণ্ডল।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ নেহা বোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতার প্রসঙ্গ তুলে ভয়মুক্ত ও গণতান্ত্রিক ভারত গড়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বজরং দলের হামলার অভিযোগ উঠবে না, আরজি করের মতো ঘটনা ঘটবে না এবং মহিলারা নিরাপদে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে না, সকলের জন্য শিক্ষার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে এবং এসএসসির মতো নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হবে না। গণমাধ্যমে সত্য ও স্বাধীন মতপ্রকাশের জায়গা থাকবে, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান চাপিয়ে দেওয়া হবে না। 
প্রণয় কার্য্যী বলেন যে দেশের ছাত্র-যুবদের আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ফ্যাসিবাদী’ মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের নজির তৈরি করেছে। সেই লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন দেশ ও নতুন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
একইসঙ্গে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন প্রণয় কার্য্যী। শিক্ষা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ছাত্র, যুব, অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদদের বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিল এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনের ডাক দেন।
এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবেও আইসা ও আরওয়াইএ-র পক্ষ থেকে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সেখানে জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র ভূমিকার সমালোচনা করে সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের পথ প্রশস্ত করা। তাই অবিলম্বে জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি জানানো হয়।

Comments :0

Login to leave a comment