মহম্মদ সেলিম
তিন মাস হলো রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়ে গেছে, নতুন সরকার তৈরি হয়েছে। কোনও সন্দেহ নেই ‘আপদ’ গেছে, কিন্তু ‘বিপদ’ এসেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী সপার্ষদ যেভাবে হুমকি দিচ্ছেন তাতে কেবল এই বিপদের মাত্রাই স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল সেগুলি এখন আর মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীদের বয়ানে নেই, উবে গেছে। নির্বাচনে জেতার পরে ‘ফুল খেলা’র বদলে প্রথমে কয়েকদিন তারা লোক দেখানো ‘ডিম খেলা’য় মেতেছিল, তারপরেই আরএসএস বিজেপি’র কুৎসিত চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। তৃণমূলকে শায়েস্তা করার নাম করে তাদের প্রায় গোটা দলটাকেই হয় বিজেপি-তে নিয়ে নিয়েছে, নয়তো অনুগত বিরোধী সাজিয়ে সই করিয়ে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছে। গরমে বরফ যতো দ্রুত গলে, তার চেয়েও দ্রুত তৃণমূল গলে গিয়ে বিজেপি-তে মিশে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে ট্রয়ের ঘোড়ার পেটের ভিতরে এভাবেই আরএসএস গত পনেরো বছর ধরে ঢুকে ছিল। তৃণমূলের ‘পুরাতনী’দের মধ্যেই বিজেপি ‘সনাতনী’ খুঁজে পেয়েছে।
কথা ছিল, বিজেপি সরকারে আসার পরে যাবতীয় দুর্নীতি, দুর্বৃত্তশাসন, নির্যাতনের অবসান ঘটাবে, রাজ্যের মানুষ এর থেকে নিষ্কৃতির পাওয়ার জন্যই বিজেপি-কে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু বিজেপি সরকারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মমতা ব্যানার্জির পুরানো কায়দায় ফিরে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই বিরোধীদের শায়েস্তার হুমকি দিচ্ছেন। নির্দিষ্টভাবে আক্রমণের নিশানা করেছেন কমিউনিস্ট, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের। বিভাজনের লক্ষ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন, মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরে বুলডোজার চালাচ্ছেন। আর এই সব অন্যায়ের প্রতিবাদে মানুষ যাতে আওয়াজ তুলতে না পারে তার জন্য বামপন্থীদের নিকেশ করার হুমকি দিচ্ছেন। এটা নতুন নয়, পুরানো কায়দা, মমতা ব্যানার্জিও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই এই হুমকি দিয়েছিলেন, কিন্তু বামপন্থীদের শেষ করতে পারেননি।
ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বিজেপি’র দুর্নীতি, বিশেষত সিবিএসই প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম, জেন জি অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। নিট কেলেঙ্কারির কথা জানা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, তারা অস্বীকারের মেজাজে ছিল। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মেধাবীরাই নিজেদের কৃতিত্বে এই কেলেঙ্কারির প্রমাণ দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করে দিয়েছে। দেশজুড়ে ছাত্র সমাজ যখন প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে তখন সমাজের অন্যান্য অংশের তিতিবিরক্ত মানুষও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সোনম ওয়াঙচুকের মতো ব্যক্তিত্বরাও আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। বামপন্থীরা গোড়া থেকেই এই আন্দোলনের পাশে থেকেছে। আন্দোলনের তীব্রতা ও ব্যাপকতা দেখে আতঙ্কিত বিজেপি এবং তাদের সরকারের মাথারা প্রথমে আন্দোলনকে ডিপ স্টেট, বিদেশি ষড়যন্ত্র, দেশদ্রোহী ইত্যাদি বলে বদনাম করার চেষ্টা করেছে। শেষপর্যন্ত দিল্লিতে পুলিশ পেরেক লাগানো লাঠি চালিয়ে, টিয়ার গ্যাস চালিয়ে এমনকি বর্বরভাবে পেলেট গান ব্যবহার করে তারুণ্যের কণ্ঠরোধ করতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারুণ্যের বিশেষত ছাত্রী ও তরুণীদের সাহস ও অদম্য জেদের কাছে সরকার মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে তরুণ প্রজন্ম। আরএসএস বিজেপি এবং তাদের প্রশাসনকে তারা দিশাহারা করে দিতে পেরেছে।
আন্দোলনকারীরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে, সুশৃঙ্খলভাবে নাছোড় মনোভাবে যে আন্দোলন করেছেন তা নতুন আশার সঞ্চার করেছে দেশজুড়ে। অন্ধকারের মধ্যে হতাশা কাটিয়ে আলোর রোশনাই ছড়িয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রের দুর্নীতি, কাজের সুযোগ না থাকা সহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল, কিন্তু তাদের আন্দোলন যাতে সংগঠিত হতে না পারে তার জন্য গোদি মিডিয়া শুরু থেকে তাদের প্রতিবাদের কোনও প্রচার করেনি। মূলধারার মিডিয়ার ওপর নির্ভরতা ছাড়াই এবারের আন্দোলন সংগঠিত করেছে ছাত্র সমাজ। যে ইন্টারনেট ও সোশাল মিডিয়ার প্রযুক্তিকে আএসএস বিজেপি অপব্যবহার করে মানুষের মনে ঘৃণার চাষ করেছে, সামাজিক বিভাজন তৈরি করে নির্বাচনে জেতায় অপব্যবহার করে এসেছে, সেই প্রযুক্তিকেই বিকল্পের মতো ব্যবহার করে ইনস্টা জেনারেশন শাসকদের কাত করে দিয়েছে। সৃজনশীল নানা কৌশলে দিনযাপনের সঙ্কটকে তারা আন্দোলনের রাস্তায় উদ্যাপনের মতো করে আক্রমণ প্রতিহত করা দেখিয়ে দিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সংহতিতে দেশজুড়ে, আমাদের কলকাতা শহরের ধর্মতলাতেও ছাত্র সমাজ আন্দোলন করে প্রশাসনের নাকে ঝামা ঘষে দিয়েছে। তারা আন্দোলনে জয় পেয়েছে, কিন্তু তাদের আন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি। দুর্নীতি ও কর্পোরেট গ্রাস থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুক্ত করতে ছাত্র সমাজ এখন নয়া শিক্ষা নীতি বাতিল, এনটিএ বাতিল এবং ব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কাকাবাবু, কমরেড মুজফ্ফর আহ্মদের ১৩৮তম জন্মদিবস উদ্যাপন করতে চলেছি। তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের চিন্তক ও সংগঠক যারা স্বাধীনতা আন্দোলনের পর্বে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের হতাশা কাটিয়ে কৃষক মজুরদের ঐক্যবদ্ধ করে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমেছিলেন। রুশ বিপ্লবের প্রেরণা নিয়ে মার্কসবাদী শিক্ষা ও মতাদর্শে শাণিত হয়ে গত শতাব্দীর বিশের দশকে তাঁরাও ব্রিটিশ বিরোধী লড়াই গড়ে তুলেছিলেন। হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মি থেকে হিন্দুস্তান সোশালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন, ভগৎ সিং থেকে চট্টোগ্রাম যুব বিদ্রোহের সংগ্রামে আমরা তার নজির দেখতে পাই। আতঙ্কিত ব্রিটিশ সরকার তাদের ঔপনিবেশিক শাসনকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেছিল কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে। লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা, কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা, পেশোয়ার ষড়যন্ত্র মামলা, কানপুর ষড়যন্ত্র মামলা, মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা দেখিয়ে কমিউনিস্টদের ও অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গ্রেপ্তার করেছিল। এখন যেমন বিদেশি ষড়যন্ত্র, ডিপ স্টেট ইত্যাদির কথা বলছে, তখনও ব্রিটিশ শাসকরা তেমনই বলেছিল তাসখন্দে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টিকে দেখিয়ে। সোভিয়েত মদতে কমিউনিস্টদের চক্রান্তের কথা বলেছিল। ব্রিটিশ শাসকরা শুধু ষড়যন্ত্র মামলার কথা বলেই ক্ষান্ত থাকেনি, নানা কালাকানুন তৈরি করে। ১৮১৮ সালের ৩ নং রেগুলেশন এবং ১৯২৫ সালের ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’এ অনেককে কারান্তরালে পাঠায়। ১৯২৭ সালের ১৯ মে গণবাণী পত্রিকায় কাকাবাবু লিখেছিলেন, এই কালাকানুন পাশের সময় থিয়েটার রোডের কোনও বাড়িতে একটি সভা আহ্বান করে মৌলবী আবুল কাসেম তাকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু কুতবুদ্দীন আহ্মদ সহ কতিপয় উদারচেতা মুসলমান সময়ে খবর পেয়ে তাতে বাধা দেওয়ায় তখন তাদের হীন প্রচেষ্টা সফল হতে পারেনি। পরে বরিশালে বঙ্গীয় মুসলিম সম্মেলনে আবুল কাসেম তাঁর পূর্বমত পরিবর্তন করেন। যে মুসলমান নেতারা ব্রিটিশদের এই আইন কেবলমাত্র হিন্দুদের ওপরে প্রযোজ্য হবে বলে মনে করেছিলেন তাঁদের ভুল ধরিয়ে দিয়ে ঐ নিবন্ধে দূরদর্শী কাকাবাবু স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ‘যদি মেনেও নেওয়া যায় যে এই আইন কেবলমাত্র হিন্দুদের জন্যই পাশ করা হয়েছে তথাপি কি এমন ঘৃণিত আইনের সমর্থন মুসলমানদের করতে হবে? সম্প্রদায় হিসাবে মুসলমান কি এমনি অনুদার?... কোনও আইন কেবলমাত্র সম্প্রদায় বিশেষের জন্য পাশ হয় না। আইনের কবলে সবাইকে পড়তে হয়।... দু’-তিন বছর স্থগিত রাখার পর আবার যখন ৩ নং রেগুলেশনের অস্ত্র উত্তোলিত করা হয় তখন সে অস্ত্র পতিত হয়েছিল সর্বপ্রথম ভারতবর্ষের ৩ জন মুসলমানের মস্তকে।’ একইভাবে ১৯২৬ সালে কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ভূমিকা নেওয়া হিন্দু ব্যক্তির ছবি কংগ্রেসের অফিসে টাঙিয়ে তাঁদের জাতীয়তাবাদী বলারও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন কাকাবাবু। ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতায় দৃষ্টি আবদ্ধ হয়ে গেলে বিপদ কীভাবে ধেয়ে আসতে পারে তা বুঝতে তাঁর এই সতর্কবাণীগুলো এখনও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
যে আন্দামান সেলুলার জেল বিশের দশকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তিরিশের দশকে তা আবার চালু করা হয়েছিল। শাসকরা মনে করে জেলের প্রাচীরের ভিতরে আটকে রাখলেই প্রতিবাদ প্রতিরোধ দমন করা যায়। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং সঙ্গী সাথীদের নিয়ে কাকাবাবুদের জীবন ও সংগ্রাম সেই অপচেষ্টাকে বারবার ব্যর্থ করে দেওয়ার নজির তৈরি করেছে। জেলে পুরে, ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়া, রাজনৈতিক বইপত্র বাজেয়াপ্ত করা, পার্টি নিষিদ্ধ করা, দপ্তরে তালা লাগিয়ে দেওয়া কোনোকিছুই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বাদ রাখেনি। কিন্তু ফল হয়েছিল উলটো। যে সব তরুণ যুবরা স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই আন্দামান সেলুলার জেলের মতো বিভিন্ন জেল থেকে বেরিয়ে এসে বামপন্থী আন্দোলনে, মূলত কমিউনিস্ট আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। প্রমাণিত হয়েছিল, হুমকি ভয় দমনমূলক পথে আন্দোলনকে থামানো যায় না, বরং তা স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলের সৃষ্টি করে।
শতবর্ষ আগে যখন কমিউনিস্টদের পরিচিতি, প্রভাব কম ছিল, সংগঠন প্রায় ছিল না, তখনই মীরাট ষড়যন্ত্র মামলার কাঠগড়াকে ব্যবহার করেছিলেন কাকাবাবুরা। কমিউনিস্টরা কী চায় তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন এবং মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছিলেন। কোনো তুলনা না করেও বলা যায়, আজকের দিনেও আমরা দেখতে পেলাম, যন্তরমন্তরের আন্দোলনের মঞ্চ যাকে পুলিশ ঘিরে রেখেছিল, মূলধারার মিডিয়া যার কোনও প্রচার করেনি, সেখানেও বিকল্প মিডিয়া ব্যবহার করে আন্দোলনকারী তরুণ প্রজন্ম নিজেদের বক্তব্যকে দেশের সামনে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন। সোশাল মিডিয়াতে পোস্ট ব্লক করে, পোস্টদাতাদের ব্যাপক ধরপাকড় করেও সরকার এটা থামাতে পারেনি। আবার প্রমাণিত হলো, সঠিক আইডিয়াকে এভাবে বন্ধ করে রাখা যায় না, বরং সেটাই মেটেরিয়াল ফোর্সের আকার নেয়।
এত কিছু সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের শাসকরা ইতিহাসের শিক্ষা নিচ্ছে না। নবারুনের ভাষায় ‘যারা লাথি মারে ইতিহাস তাদের মুছে ফেলে/ যারা লাথি খায় তারাই হাতমুঠো করে উঠে দাঁড়ায়’। ১৫ বছরে যারা পুলিশকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দম্ভ দেখিয়ে মিথ্যা মামলা করে গণতান্ত্রিক অধিকার, মূল্যবোধ, বিরোধীদের অধিকার, এমনকি হুমকি ও বিজ্ঞাপনের চাপে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও ধ্বংস করেছে তারাও লাল ঝান্ডাকে শেষ করতে পারেনি, বরং তারাই মুছে যাচ্ছে। সেই সরকারেরই প্রাক্তন মন্ত্রী বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে একই কায়দায় চলছেন। কুৎসিতভাবে কুরুচিপুর্ণ শব্দ ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছেন, বামপন্থীদের নিকেশ করার হুমকি দিচ্ছেন। এই তিন মাসে ৪৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গিয়েছে। বারুইপুরের ঘটনায় একজন দোষী/অভিযুক্ত/প্রধান সাক্ষীকে এনকাউন্টারে সাবাড় করে দিয়ে বাহবা কুড়োতে চাইলেন। অন্যদিকে মূল দোষীদের সঙ্গে শাসকদলের যোগ থাকায় তাদের আড়াল করতে নেমেছে প্রশাসন। সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলি সত্য প্রকাশে সোচ্চার হয়েছিলেন, তিনি স্থানীয় মানুষের উত্তেজনা প্রশমনে পুলিশকে সাহায্য করেছিলেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করে গ্রেপ্তার করেছে। বামপন্থীদের আন্দোলন প্রতিবাদ জমায়েত হলেই আক্রমণ শানানো হচ্ছে। এসব কায়দা কানুন আমাদেরও চেনা আছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিপদসঙ্কুল সময়ে শ্রেণির মানুষকে সংহত করে খেটে খাওয়া মানুষের লড়াই দ্বিগুণ উৎসাহে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। লড়াইটা লুটে খাওয়াদের বিরুদ্ধে খেটে খাওয়াদের। এক লুটেরা হেরেছে, কিন্তু খেটে খাওয়ারা জেতেননি, আরেক লুটেরা স্থান, পতাকা বদল করেছে। কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং আরও ‘প্রবল পরাক্রম’ দেখিয়ে বুলডোজারে আসীন হয়ে খেটে খাওয়া মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। মানুষকে ভাগ করে ওরা এতদূর এগিয়ে এসেছে। কাকাবাবুর শিক্ষা, গণআন্দোলনই হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সব মানুষের মিলনক্ষেত্র, ঐক্যবদ্ধ করার পথ। চলমান আন্দোলনও দেখিয়ে দিচ্ছে রুটিরুজির লড়াই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, শিক্ষা স্বাস্থ্যের লড়াই, কাজের লড়াই, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচার লড়াই মানুষকে জাতি ধর্ম ভাষা নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ করে, মানুষের মধ্যে সংহতি, প্রেম ভালোবাসা, সহমর্মিতার প্রসার ঘটায়। তাই এই আন্দোলনকেই নয়া ফ্যাসিবাদীরা সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে।
কাকাবাবুর শিক্ষা, গণআন্দোলন হলো হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সব মানুষের মিলনক্ষেত্র। চলমান আন্দোলনও দেখিয়ে দিচ্ছে রুটিরুজির লড়াই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, শিক্ষা স্বাস্থ্যের লড়াই, কাজের লড়াই, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচার লড়াই মানুষকে জাতি ধর্ম ভাষা নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ করে, মানুষের মধ্যে সংহতি, প্রেম ভালোবাসা, সহমর্মিতার প্রসার ঘটায়। এই আন্দোলনকেই ফ্যাসিবাদীরা সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে।
Comments :0