শারীরিক অসুস্থতার পর এক নাবালিকা একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাথাভাঙা ও সংলগ্ন এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার আগে এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে যাওয়ার সময় তাকে জোর করে মাদক পানীয় খাওয়ানো হয় এবং সেই পানীয়ের মধ্যে কোনও ওষুধজাতীয় পদার্থ মেশানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রী একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় পরিবারের কাছে তার যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। তার বাবা একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্যারা-টিচার। পরিবারের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় বাবা-মা এবং ঠাকুরদা-ঠাকুমার কাছে সে ছিল অত্যন্ত আদরের।
পরিবারের দাবি, গত ৪ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। প্রথমে বমি ও বমি বমি ভাব শুরু হলে তাকে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর সাময়িকভাবে সুস্থ হওয়ায় তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কোচবিহারের এমজিএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পরবর্তীতে তাকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ওই সময় নাবালিকার এক পুরুষ বন্ধুও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। অসুস্থ অবস্থায় নার্সিংহোমে মায়ের কাছে ওই ছাত্রী দাবি করে, অসুস্থ হওয়ার আগের দিন মাথাভাঙায় বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তাকে জোর করে বিয়ার জাতীয় পানীয় খাওয়ানো হয়েছিল এবং তার মধ্যে কোনও ওষুধজাতীয় পদার্থ মেশানো হয়েছিল বলে তার সন্দেহ হয়। তবে এই বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা খুঁজে দেখছে পুলিশ।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়ের এই অভিযোগ জানার পর তার মা ওই যুবককে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর চিকিৎসাধীন নার্সিংহোমে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে ওই যুবকের কথাবার্তা নিয়েও পরিবারের সন্দেহ তৈরি হয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা নার্সিংহোম থেকে চিকিৎসার নথিপত্র নিয়ে নাবালিকাকে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে কিছুটা যাওয়ার পরই রাস্তায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
এরপর রবিবার রাতে মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাথাভাঙা থানায় পৌঁছায়। সোমবার থানায় অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি চলছে সুরতহালের প্রক্রিয়া। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগে উঠে আসা ওই যুবক, চিলকিরহাট এলাকার বাসিন্দা শুভঙ্কর ওরফে শুভ বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Mathabhanga
মাথাভাঙায় নাবালিকা ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু
×
Comments :0