রেশন ব্যবস্থার জন্য শস্য ভাণ্ডারের অধুনিকীকরণ করছে কেন্দ্র। ফুড কর্পোরেশনের ‘হাব অ্যান্ড স্পোক‘ প্রকল্প চালু করছে। কিন্তু শস্য ভাণ্ডার প্রকল্পেও দখল আদানির। ‘আদানি এগ্রি লজিস্টিকস‘ এবং আরেক সংস্থা ‘লিপ ইন্ডিয়া ফুড অ্যান্ড লজিস্টিকস‘-র দখলে গিয়েছে ১৩৪টি শস্য ভাণ্ডারের মধ্যে ১১০-টির বরাত।
সংবাদ ওয়েবসাইট ‘নিউজ লন্ড্রি’-র এমন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে দু’টি সংস্থার হাতে খাদ্য সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামোকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আদানি এবং অপর একটি সংস্থা লিপ ইন্ডিয়ার হাতে শস্য ভাণ্ডার পরিকাঠামো তুলে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করছে সারা ভারত কৃষক সভা। একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রোধের বিধি প্রয়োগ করে বরাত প্রক্রিয়া চালানোর দাবি তুলেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া বা এফসিআই কৃষকদের থেকে শস্য সংগ্রহ করে। রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই শস্য পৌঁছানো হয় উপভোক্তাদের কাছে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী প্রায় ৮১ কোটিকে খাদ্য সুরক্ষার সুবিধা দেওয়া হয়। ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ প্রকল্পে শস্য ভাণ্ডারের আধুনিকীকরণ এবং শস্য সরবরাহের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চালু হয়েছে।
‘নিউজ লন্ড্রি‘-র প্রতিবেদন অনুযায়ী এফসিআই এ সংক্রান্ত আলোচনায় সরকারকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রোধ বিধি চালু করতে বলেছিল। অভিযোগ, ২০২২ সালে প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সময় নীতি আয়োগ এবং কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীন অর্থনীতি বিষয়ক দপ্তর এই একচেটিয়াকরণ রোধ বিধি বাতিল করে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অ্যাপ্রেইজাল কমিটির সেই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এরপরই দেখা যায় প্রথম দফার দ্বিতীয় রাউন্ডে আদানি একাই সব শস্য ভাণ্ডারের বরাত পায়।
সারা ভারত কৃষক সভার সভাপতি অশোক ধাওলে এবং সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণন বলেছেন, কোনও একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী কতগুলি শস্য ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণ করবে তার সীমা থাকা জরুরি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ সংক্রান্ত কমিটির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে যৌথ সংসদীয় কমিটি গড়া উচিত।
কৃষকসভার দাবি, কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে দীর্ঘকালীন একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ তুলে না দিয়ে সরকারি বিনিয়োগে ফুড কর্পোরেশনের নিজস্ব পরিকাঠামো বাড়ানো জরুরি। খাদ্য সুরক্ষা পরিকাঠামোয় কর্পোরেট রুখতে সব অংশকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কৃষকসভা।
Adani FCI Kisan Sabha
শস্যের গুদামে আদানির দখল ঠেকাতে ব্যবস্থার দাবি কৃষকসভার
×
Comments :0