তামিলনাড়ু বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি কে. অন্নামালাই-এর বিজেপি ছাড়ার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তিনি দলের সভাপতি নিতিন নবীন এবং সংগঠন সম্পাদক বি.এল. সন্তোষ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পর থেকেই তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, অন্নামালাই বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়েছেন যে তিনি এবার নিজের রাজনৈতিক পথ নিজেই নির্ধারণ করতে চান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণভাবেই দলের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানতে আগ্রহী। যদিও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও তাকে দলে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। সূত্রের কবর অন্নামালাই ইতিমধ্যেই নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা অন্নামালাইয়ের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, তিনি বিজেপির মধ্যে নিজের ভবিষ্যৎ দেখছেন না। এমনকি তাকে রাজ্যসভার আসনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, অন্নামালাই প্রথমে একটি বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করতে পারেন, পরে সেটিকেই রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমমনস্ক মানুষদের একত্রিত করে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
সূত্রের খবর, অন্নামালাইয়ের সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক দল তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনেও অংশ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে সেটিই হবে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক শক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা।
উল্লেখ্য, গত মাসে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করে। তবে রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অন্নামালাই তামিলনাড়ুতে বিজেপির রাজনৈতিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিলেন। তৃণমূল স্তরে ধারাবাহিক সফর, আক্রমণাত্মক প্রচারাভিযান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় প্রচারের মাধ্যমে তিনি দলের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটান এবং নিজেরও একটি শক্তিশালী জনভিত্তি তৈরি করেন।
অন্নামালাই চেয়েছিলেন বিজেপি এককভাবেই বিধানসভা নির্বাচনে লড়ুক। তার বিশ্বাস ছিল, গত কয়েক বছরে দল যে রাজনৈতিক জমি তৈরি করেছে, তা স্বাধীনভাবে লড়াই করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত এআইএডিএমকে-র সঙ্গে নতুন করে জোট করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শাসক ডিএমকে-র বিরুদ্ধে বিরোধী ভোট একত্রিত করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
জোট পুনঃস্থাপনের আগে এআইএডিএমকের সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাডি কে. পলানিস্বামী নাকি তামিলনাডুম বিজেপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি তুলেছিলেন। এরপরই অন্নামালাইকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এতে দলের মধ্যে তার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে জল্পনা শুরু হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থীও হননি, আবার বিজেপির প্রচারেও তাকে বিশেষ সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি অন্নামালাই সত্যিই বিজেপি ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলেন, তবে তা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার, বিজেপি নেতৃত্ব শেষ মুহূর্তে তাকে দলে ধরে রাখতে পারে কি না, নাকি তামিলনাড়ু শিগগিরই আরেকটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির সাক্ষী হতে চলেছে।
Tamil Nadu
বিজেপি ছাড়ার পথে অন্নামালাই? জল্পনা তুঙ্গে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে
×
Comments :0