No Kings Protest

আমেরিকা জুড়ে ‘নো কিংস‘, রাস্তার দখল জনতার, ট্রাম্পকে ধিক্কার ইউরোপেও

আন্তর্জাতিক

নিউ ইয়র্কে টাইমস স্কোয়ারে রাস্তায় কেবল মানুষ।

স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবৈধ অভিবাসী ধরার নামে নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে গণতন্ত্র। এদিকে জীবনমান বজায় রাখতে লাফিয়ে বাড়ছে খরচ। 
এই ভাষায় প্রতিবাদের জানান দিয়ে আমেরিকায় প্রায় ৩ হাজার মিছিলে শামিল হলেন বাসিন্দারা। এবারের প্রতিবাদও হয়েছে ‘নো কিংস‘ স্লোগানে। 
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানাচ্ছে যে মিনেসোটায় প্রতিবাদ তীব্র হয়েছে। এই শহরেই আমেরিকার দুই নাগরিক, রিনি নিকোলে গুড এবং অ্যালেক্স প্রিটি, অভিবাসন রোধ বাহিনী ‘আইস’-র হাতে নিহত হয়েছিলেন। গত জানুয়ারিতে পরপর এমন নিপীড়নেও প্রতিবাদ জানিয়েছিল আমেরিকা। 


মিনেসোটায় জনতার ঢল।

রাজার রাজত্বে অতিষ্ঠ জনতা স্লোগান দিয়ে ইরানের ওপর আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিপক্ষেও। এর আগে আমেরিকায় একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সে দেশের জনগণের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মনে করছে যে ইরানে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার কোনও দরকার ছিল না।
ট্রাম্প প্রশাসন এবারও বিক্ষোভের জন্য দায়ী করেছে ‘বামপন্থীদের‘। সোশাল মিডিয়ায় কিছু পোস্টে বলা হয়েছে যে কাস্তে হাতুড়ি চিহ্ন সহ লাল পতাকাও দেখা গিয়েছে কোনও কোনও বিক্ষোভে।
ভারতীয় সময়ে শনি এবং রবিবার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে ইউরোপের দেশে দেশে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জার্মানি, ব্রিটেন এবং ইতালি। 
আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে পোটোম্যাক নদী থেকে লিঙ্কন মেমোরিয়াল পর্যন্ত হয় মিছিল। ঐতিহাসিক লিঙ্কন মেমোরিয়াল নাগরিক অধিকারের পক্ষে বিভিন্ন আন্দোলনের সাক্ষী। এই মিছিলে সেনা গিয়েছে স্লোগান যে ‘ট্রাম্পকে এবার সরতে হবে‘। স্লোগান উঠেছে, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে‘। 


বিক্ষোভ ওয়াশিংটনে।

আটলান্টায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে অনেকেই সংবাদসংস্থাকে বলেছেন যে আমেরিকার সংবিধান গভীর বিপদের মধ্যে রয়েছে। সামরিক বাহিনীর এক প্রাক্তন সদস্য ছত্রিশ বছরের মার্ক ম্যাককঘে বলেছেন, ‘‘কোনও দেশ জনগণের সম্মতি না নিয়ে চলতে পারে না। ট্রাম্প জনগণকে বাদ দিয়ে চলছেন।’’ 
ট্রাম্প আসীন হওয়ার পর এই নিয়ে তিনবার ‘নো কিংস‘ প্রতিবাদে রাস্তায় জনতার ঢল নামল আমেরিকায়। নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লস এঞ্জেলস, বস্টন, ন্যাশভিল, হাউস্টনের মতো বড় শহরে একাধিক মিছিল বের হয়েছে। ট্রাম্পের পাশাপাশি উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের কুশপুতুল পুড়িয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। 

লস এঞ্জেলসে সিটি হলের সামনে বিক্ষোভ।
রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছে এবারও। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেছেন, বামপন্থীদের মদত এবং অর্থে কিছু মানুষকে নামানো হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment