security guards temporarily suspend sit-in

১৩ দিন ধরে নেই কাজ, পুনর্বহালের আশ্বাস মেলায় আপাতত স্থগিত নিরাপত্তারক্ষীদের অবস্থান

জেলা

বিনা নোটিশে কাজে আসতে নিষেধের অভিযোগ, পুনর্বহালের দাবিতে জলপাইগড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মূল গেটে অবস্থান নিরাপত্তারক্ষীদের।

 এক মাস ১৩ দিন ধরে কাজ নেই জলপাইগুড়ি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ২০ জন নিরাপত্তারক্ষীর। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের পরিবারগুলির। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মচ্যুত নিরাপত্তারক্ষীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কলেজের মূল গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। এর ফলে কলেজ চত্বরে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস এবং নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে যাতায়াত ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কোনও আগাম লিখিত নোটিশ বা কারণ না জানিয়েই গত ১ জুলাই থেকে তাঁদের মৌখিকভাবে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তাঁরা সকলেই ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে কলেজের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তাঁরা। সিআইটিইউ অনুমোদিত সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-এলাইড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ডাকে এদিনের অবস্থান কর্মসূচি হয়।
শ্রমিক নেতা শুভাশিস সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা নিরাপত্তারক্ষীদের এভাবে মৌখিক নির্দেশে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে আইনগত প্রশ্ন রয়েছে। দ্রুত তাঁদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি, প্রয়োজনে শ্রম দপ্তরের দ্বারস্থ হয়ে আইনগত পথে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর অধ্যক্ষ অমিতাভ রায় এসে বিক্ষোভকারীদের সামনে জানান, কলকাতার বিকাশ ভবনের সঙ্গে কথা তার হয়েছে এবং ঠিকাদারি সংস্থার অনুমোদনও ইতিমধ্যেই এসে গেছে। নিরাপত্তারক্ষীদের পুনর্বহালের জন্য তিনি ৭ দিন সময় চান। অধ্যক্ষের আশ্বাসের পর আপাতত ৭ দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেন কর্মচ্যুত নিরাপত্তারক্ষীরা। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সময়ের মধ্যে কাজে পুনর্বহাল না করা হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার কথা জানান তারা।
অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীরা জানান, এক মাসেরও বেশি সময় নিরাপত্তারক্ষীরা কাজে না থাকায় কলেজ ও হস্টেলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সামলে আসা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও কলেজের নিরাপত্তা—দুই প্রশ্নেই দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠেছে।
 

Comments :0

Login to leave a comment