CPI(M) on Modi's distortion of history

দেশভাগ সাম্রাজ্যবাদের মদতে, অবর্ণনীয় যন্ত্রণার: মোদীর ইতিহাস বিকৃতিতে বলছে সিপিআই(এম)

রাজ্য কলকাতা

'মানুষের দরবারে মানুষের ইতিহাস' কর্মসূচি সম্পর্কে গণশক্তি ডিজিটাল-কে বলছেন কল্লোল মজুমদার

দেশভাগ আসলে বিপুল জনসাধারণের অবর্ণনীয় যন্ত্রণার কারণ হয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদের মদতে হয়েছিল দেশভাগ। তাকেই সাফল্য বলে পালন চলছে পশ্চিমবঙ্গ দিবসে। বিকৃত ইতিহাসের মোকাবিলায় প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরবে সিপিআই(এম)।
২১-২৪ জুন কলকাতায় ‘মানুষের দরবারের মানুষের ইতিহাস’ কর্মসূচি ব্যাখ্যা করে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার। 
‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস‘ পালনের অনুষ্ঠানে শনিবার রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারকেশ্বরে সভায় তিনি দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ এই প্রথম শিকলমুক্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবদানকে আড়াল করতেই অতীতে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করা হয়নি। তারকেশ্বরে সভায় ২০ জুনই এই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস‘ কেন পালন করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে বলেন তিনি।

 


কল্লোল মজুমদার বলেন, ‘‘ভোটে জেতার পর ২০ তারিখকে কেন্দ্র করে, দেশভাগকে বিকৃত উপায়ে হাজির করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশভাগ আসলে উদ্বাস্তু মানুষের জন্য যন্ত্রণার। আমরা বামপন্থীরা, তৎকালীন নেতারা এই বিষয়ে বিরোধ করেছিল যখন অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদের মদতে মাউন্টব্যাটনের সাথ দেওয়ায় সেই সময় বামপন্থীরা দেশভাগ প্রতিহত করতে পারেনি।’’
মজুমদার বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ সহ মুসলিম লিগ, তৎকালীন নেতৃত্ব ক্ষমতা দখল জন্য এই দেশ ভাগকে চেয়েছিল। এই চাওয়া আসলে মানুষকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলো, যার ফল দেশভাগের ২৫-৩০ বছর পরেও মানুষ ভোগ করছেন।’’
বিজেপি’র বক্তব্য অনুযায়ী ১৯৪৭’র এপ্রিলে তারকেশ্বরে হিন্দু মহাসভার প্রাদেশিক স্তরের বৈঠক হয়। সেখানে বাংলাকে ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২০ জুন বাংলার আইনসভায় ভোটাভুটিতে তা স্বীকৃত হয়। সে কারণে মোদীর সভা তারকেশ্বরে।
কিন্তু ঘটনা হলো, ১৯৪৬’র ৩ জুনই সে সময়ে ব্রিটিশ শাসন দেশভাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিল। সে সময়ে বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধি ছিলেন কেবল শ্যামাপ্রসাদই। বাংলার আইনসভায় ব্রিটিশ শাসনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। কিন্তু ২৫০ সদস্যের আইনসভায় কেবল শ্যামাপ্রসাদের জন্য তা হয়নি। দেশভাগকে অতীতে কোনও রাজনৈতিক শক্তি ‘সাফল্য’ বলে বর্ণনাও করেনি।    
মজুমদার সে প্রসঙ্গেই বলেছেন, ‘‘বিজেপি ইতিহাস বিকৃত করে মানুষের সামনে আনতে চাইছে। তার উল্টোদিকে মানুষের কাছে আসল সত্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ আমরা বামপন্থীরা করছি।

Comments :0

Login to leave a comment