Again Student Protest in Patna

ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশি আক্রমণ, পাটনায় ফের রাস্তায় নামলেন শিক্ষার্থীরা

জাতীয়

গতমাসে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সেই আন্দোলনের সংহতিতে পাটনায় আয়োজিত ছাত্র বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক পুলিশি আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি জলকামান চালানোর অভিযোগে, প্রায় একশোরও বেশি শিক্ষার্থী ও যুবরা মঙ্গলবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বাসভবনের সামনে মিছিল করে তাঁদের সম্মিলিত প্রতিবাদ জানায়। 
পাশাপাশি, ঝাড়কাণ্ডের রাঁচিতে ও শিক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে, জেপিএসসি ও জেএসএসস -র পরীক্ষায় অনিয়মকে কেন্দ্র করে একটি বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়েছে।  
এদিনের মিছিলে ডিওয়াইএফএই, এ আইএসএফ সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন অংশগ্রহণ করে। এদিন আন্দোলনকারীরা গান্ধী ময়দানের সামনে সমবেত হয়, সেখান থেকেই তাঁরা সম্রাট চৌধুরির বাসভবনের কিছু আগে পর্যন্ত মিছিল করে যেতেই দুই কিলোমিটার আগে, আয়কর ভবনের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড করে আন্দোলনকারীদের আটকায়। 
বিক্ষোভকারীরা গত মাসে রাজ্যজুড়ে চলা আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সকল শিক্ষার্থীর মুক্তি সহ তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের ও দাবি জানায় এদিন। 
আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন বলেন, " বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রেপ্তার হওয়ার পর যারা জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেনএবং এখনও পর্যন্ত  যারা জেলে আছেন, তাদের একটি তালিকা পেশ করার দাবি আমরা জানাচ্ছি।"
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত মাসে ডাকা বনধ কার্যকর করার সময় বিহার পুলিশ প্রায় ৬০০ জনকে আটক করেছিল।
পুলিশ পরে তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেককে নাবালক হিসেবে শনাক্ত করে ছেড়ে দেয় এবং বাকিদের জেলে পাঠায়।
আইসা-র সর্বভারতীয় নেত্রী নেহার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ডিজিপি বিনয় কুমারের সঙ্গে দেখা করার পর রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছিল যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং জেলবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। তবে  বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করা হয়নি।
গান্ধী ময়দানে আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, " আমাদের অনেক বন্ধু এখনও বাড়ি ফেরেনি। পুলিশ মিথ্যা বলছে। আমরা আমাদের বন্ধুদের নিয়ে চিন্তিত।" 
আরেকজন আন্দোলনকারী বলেন, "আমি এমন একটি জেলা থেকে এসেছি যেখানে একজন পুলিশ সদস্য একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন। ওই কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তবে আমরা এসপি-র বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি, কারণ তাঁর অধস্তন কর্মীদের মধ্যে নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা তৈরির জন্য তিনিই দায়ী।"
পুলিশ আধিকারিক অমরেন্দ্র কুমার ঝা জানিয়েছেন যে বিক্ষোভকারীরা একটি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তখনই পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। তিনি বলেন, "আমরা কাউকে আটক করিনি। বরং,বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধি দলকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সামনে তাদের অভাব-অভিযোগ তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছি।"
অপরদিকে, ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন মঙ্গলবার সপ্তম দিনে পড়েছে। রবিবারই এই আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র নেতৃত্বরা।  
এক্স পোস্টে এই বিষয়টি নিয়ে দীপকে লিখেছেন, “ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি  নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে যারা বিক্ষোভ করছেন, সেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সিজেপি ঝাড়খণ্ডের সমস্ত শিক্ষার্থীর পাশে আছে এবং তাদের দাবিগুলোকে সমর্থন করে।”

Comments :0

Login to leave a comment