দীর্ঘ ১৫ বছরে রাজ্যের তৃণমূল সরকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্ম সংস্থনের দিসা দেখাতে পারেনি। এই সরকারের সময়কালে নতুন করে শিল্পও হয়নি। তবে বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন তারআগে এবছরের বাজেটে বাজেটে রাজ্য সরকার চালু করেছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্তদের অর্থাৎ চাকরি না পাওয়া তরুণ-তরুণীদের মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা বাজের ঘোষণা করেন রাজ্য সরকার। রবিবার থেকে যুব সাথী ক্যাম্প শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক চত্বরে উপচে পড়েছে বেকার যুবক-যুবতীদের দীর্ঘ লাইন। এদিন যুব সাথী ফরম তুলতে গিয়ে পুলিশের হাতে আক্রান্ত হলেন স্থানীয় যুবক। জানা গেছে , এদিন চোপড়া বিডিও অফিসে যুবসাথীর ফরম তুলতে এলাকার যুবকদের বিরাট লম্বা লাইন পড়ে। লাইন এক পর্যায়ে থমকে যায়। তখন প্রচার শুরু হয় যে শাসক দল ঘনিষ্ঠ যুবকরা লাইন না মেনে ভেতর দিয়ে ঘরে ঢুকে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করছে। এই খবর চাউর হলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা বিষয়টি দিকে নজরে দেওয়ার কথা বললে কর্তব্যরত কর্মীরা লাইনে দাঁড়িয়া থাকা যুবকদের সঙ্গে অমূলক আচরণ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলে অভিযোগ। তখন এক যুবক ঘটনার প্রতিবাদ জানালে পুলিশ তাকে লাঠিপেটা করে এবং তাকে আটক করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে ওই যুবকের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ইতিমধ্যেই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই ভিডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি গণশক্তি ডিজিটাল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওই যুবককে মারছে পুলিশ। তাঁকে আঁকড়ে বাঁচানের চেষ্টা করছেন একজন তরুনী। যুবককে ঘিরে কয়েকজন পুলিশ মারধর করতে থাকে। কেউ মাথায়, কেউ পায়ে, কেউ গায়ে। তারপর মারতে নিয়ে যায় পুলিশ। বেকার ভাতা নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আক্রান্ত হলেন যুবক।
এদিন সকাল থেকেই চোপড়া বিডিও অফিসে যুবসাথীর বিরাট লাইন পড়ে যায় এবং মাইক হাতে চোপড়া থানার আইসি সুরজ থাপা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। যদিও পুলিশের মারধরের বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ ছোপড়া থানার আইসি। এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে সিপিআই(এম)’র পক্ষ থেকে। দলের জেলা সম্পাদক আনোয়ারুল হক পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন,‘‘ রাজ্য সরকার কোন পরিকল্পনা ছাড়াই শুধু নির্বাচনের চমক দিতে এক একটা প্রকল্প ঘোষণা করে পরিকাঠামো গত বিষয়ে না ভেবেই। এলাকার যুবকেরা চাকরি পাচ্ছে না সেখানে ভাতার লাইনে গিয়ে পুলিশের মার জুটছে। এই বিশৃঙ্খলার দায় শুধু একা পুলিশের নয় রাজ্য প্রশাসনের। আমরা এই পুলিশের এবং প্রশাসনের হটকারী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
Comments :0