DA Nabanna

বকেয়া ডিএ’র রায় অমান্য: আদালত অবমাননার নোটিস গেল নবান্নে

রাজ্য

বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রায় রিভিউয়ের আবেদনের আগে শুক্রবারই নবান্নে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠালো মামলাকারী কর্মচারী সংগঠন।
এদিন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সভাপতি শ্যামল মিত্র ও সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও অর্থ দপ্তরের প্রধান সচিব প্রভাত কুমার মিশ্রের নামে আদালত অবমাননার চিঠি জমা দিয়ে আসেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এ রাজ্যে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন প্রাপক কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার রায় দেয়। ফলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ দিন পার হয়ে গেছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের রায় অবমাননার দায়ে রাজ্য প্রশাসনের দুই শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে নোটিস দিয়ে রাখলো কর্মচারী সংগঠন। 
শীর্ষ আদালতের রায় ঘোষণার পরেও সরকার যে কর্মচারীদের প্রাপ্য মহার্ঘভাতা দিতে নারাজ, তা মমতা ব্যানার্জি একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। রায় বের হওয়ার দিনই রাজ্য বাজেট পেশ হয়েছিল বিধানসভায়। তখন ডিএ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী রায়ের কপি ‘স্টাডি করে’ জানাবেন বলেছিলেন। এমনকি রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু কাগজে-কলমে মুখ্যমন্ত্রীর সেই কমিটির কোনও নির্দেশিকা তারপর থেকে আর প্রকাশ্যে আসেনি। রায় বের হওয়ার দিনই রায়ের কপি নিয়ে নবান্নে মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবের কাছে পৌঁছে দিয়ে এসেছিলেন মামলাকারী কর্মচারী সংগঠন। কিন্তু তারপরও রাজ্যে বেকার ভাতা প্রকল্প চালুর দিন ভোটের আগে এগিয়ে আনার ঘোষণার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা ব্যানার্জি ‘বিচারাধীন’ অজুহাতে মহার্ঘভাতা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ফলে কর্মচারীদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছিল, সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে ডিএ দিতে নারাজ। বরং রায় পুনর্বিবেচনা করাতেই সরকারের আগ্রহ। কিন্তু আইনজীবীদের বক্তব্য, ‘‘রায় রিভিউ করার সুযোগ কম। কারণ, দীর্ঘ প্রায় তিন বছর শুনানির পর শীর্ষ আদালত এরাজ্যের কর্মচারীদের জন্য ডিএ মামলার রায় ঘোষণা করেছে। কিন্তু ডিএ কর্মচারীদের আইনি বলবৎযোগ্য অধিকার বলার পরও রাজ্য সরকার স্রেফ সময় নষ্টের জন্য ফের আদালতে যেতে চাইছে। রায় পুনর্বিবেচনার নোটিস সরকারের তরফ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ার আগেই আদালত অবমাননার নোটিস পাঠিয়ে রাখলো মামলাকারী সংগঠন। নবান্নে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠান আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও গোপা বিশ্বাস।

Comments :0

Login to leave a comment