Siliguri Municipal Corporation

শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব প্রাক্তন সিপিআই(এম) কাউন্সিলাররা

জেলা

শহরের নানা জলন্ত সমস্যা এবং শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন সিপিআই(এম)’র প্রাক্তন কাউন্সিলাররা। মঙ্গলবার দুপুরে হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনে এই সাংবাদিক সম্মেলন হয়। সম্প্রতি রাজ্যের পৌরমন্ত্রীর শিলিগুড়ি সফর এবং তার কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সিপিআই(এম)’র প্রাক্তন কাউন্সিলার মুন্সী নুরুল ইসলাম বলেন, গত ২ আগস্ট ‘মন্ত্রীকে বলো’ একঘন্টার কর্মসচিতে মোট ৩৭টি ফোনের মধ্যে ৩৪টি ফোনই এসেছে শহরের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, বেহাল নিকাশী ব্যবস্থা, বেআইনী নির্মান, ইকো সেন্সেটিভ জোন ইত্যাদি বিষয়ে। যে সমস্যাগুলি নিয়ে প্রতিদিন আমরা রাস্তার আন্দোলনে আছি। সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন সিপিআই(এম)’র আরও তিনজন প্রাক্তন কাউন্সিলার শরদিন্দু চক্রবর্তী, মৌসুমী হাজরা ও দীপ্ত কর্মকার। 
অভিযোগ করেন, শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের জলন্ত সমস্যা নিয়ে মন্ত্রী একটি কথাও বলেননি। শিলিগুড়িতে পানীয় জলের বড় প্রকল্পের কাজ আটকে রয়েছে। ইকো সেন্সেটিভ জোনের কোন সমাধান হলো না। শারদোৎসবের আগে রাস্তাঘাটের কোন মেরামতির কাজ শুরু হয়নি। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের স্থায়ী ৭২০টি পোষ্টের মধ্যে ৫৫০টি ফাঁকা পোষ্টে নিয়োগ নেই। ‘আমার পাড়া, পাড়ায় সমাধান’ ২৫ কোটি টাকা কর্পোরেশনে পড়ে রয়েছে। কাজ হচ্ছে না। বিগত পৌরবোর্ডের সময়ে নিকাশী ব্যবস্থার জন্য পঞ্চদশ ফাইনান্স কমিশনের বরাদ্দ করা ৫০ কোটি টাকার কিছু কাজ শুরু হয়েছিলো এবং বেশ কিছু কাজের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছিলো। কিন্তু সরকারি নির্দেশনামায় কাজগুলি বন্ধ। কোনক্ষেত্রেও নির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি। এছাড়াও পৌর কর্পোরেশনের কাজের, বিল্ডিং—র অডিট সেই বিষয়গুলিরই বা কি হলো। মানুষকে জানানো হয়নি। এসজেডিএ—র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সেক্রেটারি এই দুইজন পার্টটাইম অফিসারকে দিয়ে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশন চলছে। প্রশাসক সপ্তাহে তিনদিন বসেন। সময় চাইলে সময় পাওয়া যায়। কমিশনার বেশীরভাগ সময়ই বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। মন্ত্রী নতুন কিছু বলবেন। শিলিগুড়িবাসীর অনেক আশা প্রত্যাশা ছিলো। কিন্তু শহরের সার্বিক সমস্যার সমাধান না করে কি কি ক্ষেত্রে কর বসবে সেগুলির তালিকা দিয়ে কিছু জনপ্রিয় কথা বলে ফিরে গেছেন। 
একজন কর্মচারি মন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন ভাতা বৃদ্ধির জন্য। সেই কর্মচারিকে বলা হয়েছে আট ঘন্টা করে দুটি শিফটে কাজ দেব। তাহলে ওয়েজ দ্বিগুন হয়ে যাবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৬ঘন্টা একনাগাড়ে কাজ করে কর্মচারিদের দ্বিগুন বেতন নিতে হবে কর্মচারিদের। শ্রম কোড বা আইন রয়েছে। মানবিক দিক বিচার না করে এমনটা কি করে মন্ত্রী বলতে পারেন। অবিলম্বে কর্পোরেশনের স্থায়ী শূন্য পদে লোক নিয়োগের দাবি জানান। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের ৪৭টি ওয়ার্ডের জন্য বিজেপি—র কো—অর্ডিনেটর নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেছেন, এই কাজ কর্পোরেশনের নীতি ও সংবিধান বিরুদ্ধ। দলীয় কাজের জন্য হলে আপত্তি নেই। কিন্তু এর সাথে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের নাম যুক্ত হওয়ায় আপত্তি আছে। সাধারন মানুষের কাছে বিজেপি—র দ্বারা নিযুক্ত এই কো—অর্ডিনেটরদের প্রত্যাখান করার আহ্বান জানান। অবিলম্বে কমিশনারকেও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানান। আরো অভিযোগ করেন, ৩৫নম্বর ওয়ার্ডে কয়টা ভ্যান, বেলচা, লেবার লাগবে তা জানিয়ে সুপারভাইজারের পরিবর্তে ওই ওয়ার্ডেরই এক বিজেপি নেতা বিজেপি—র প্যাডে কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের অফিসিয়াল গ্রুপে সেই বেসরকারী চিঠিটি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ২৩নম্বর ওয়ার্ড সরকারি ত্রিপল বিলি করছেন বিজেপি—র লোকেরা। 
নুরুল ইসলাম আরো বলেছেন, শহরে যা কিছু উন্নয়ন তা হয়েছে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে। বামফ্রন্ট ২০১৫সালে নির্বাচনে জয়ী হবার পরে অশোক ভট্টাচার্যকে মেয়র করে সেই সময় বামফ্রন্টের শিলিগুড়ি পৌরবোর্ড গঠিত হয়েছিলো। তৎকালীন তৃণমূল রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা ও বঞ্চনা সত্ত্বেও পাঁচ বছর উন্নয়নের কাজ করেছে বামফ্রন্ট পরিচালিত শিলিগুড়ি পৌরবোর্ড। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের বিগত তৃণমূলের বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পরেই প্রশাসকের সাথে দেখা করে কি কি অসুবিধা হচ্ছে বা হতে চলেছে তা নিয়ে আলোচনা করেছি। সময় না দেওয়ায় চিঠি দিয়েছি আমরা। বিভিন্ন শংসাপত্র সংগ্রহ করতে প্রতিদিন মানুষের হয়রানি হচ্ছে। দুইমাসের বেশী সময় ধরে রাজ্য সরকারের তুঘলকি সিদ্ধান্তের কারনে ডিজিটাল সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। সব কিছু আটকে রয়েছে। উদ্বিগ্ন ছাত্রছাত্রী অভিভাবকদের ফোন আসছে প্রতিদিন। নিয়ে রাজ্যের পৌরমন্ত্রীর কোন হেলদোল নেই। মানুষের সমস্যাগুলি নিরসনের চেষ্টা না করে সমস্যাকে জিইয়ে রাখতে চাইছে। ফলে সাধারন মানুষদের হয়রানি হতে হচ্ছে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন নয়, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার পক্ষে ওরা।

Comments :0

Login to leave a comment