Attack on CPI(M) Office

বেপরোয়া আক্রমণ ভেটাগুড়ির সিপিআই(এম) দপ্তরে, তীব্র প্রতিবাদ

জেলা

এভাবেই কোচবিহার ভেটাগুড়ি সিপিআই(এম) দপ্তরে হামলা চালিয়েছে বিজেপি দুষ্কৃতীরা। ছবি- অমিত কুমার দেব

নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমস্ত রকম দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য এবং তাদের কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনিক ভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ সহ বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার বামপন্থী দলসমূহের নেতৃত্বরা জেলা শাসকের কাছে দাবিপত্র পেশ করলেও, কাজের কাজ হলো না কিছুই। প্রশাসনিক স্থবিরতা আরও একবার সামনে এলো কোচবিহারে।
এবার বেপরোয়া আক্রমণ কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়ি এলাকায় অবস্থিত সিপিআই(এম) দপ্তরে। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা শুধুমাত্র এই পার্টি অফিসের ভাঙচুরই চালায়নি, পার্টি অফিসের ভেতরে থাকার চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশন, গুরুত্বপূর্ণ নথি সহ আরও বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। শুধু তাই-ই নয়, পার্টি অফিসটির দরজা-জানালা রীতিমতো খুলে নিয়ে গেছে তারা। তাদের হামলায় গোটা পার্টি অফিসটি কার্যত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বাড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত সিপিআই(এম) পার্টি অফিস কমরেড হরেকৃষ্ণ কোঙার ভবনে বিজেপি দুষ্কৃতীদের এই আক্রমণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতির চূড়ান্ত অবক্ষয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বেশ কয়েকদিন ধরেই বিচ্ছিন্ন ভাবে এই পার্টি অফিসটি ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করে স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে তাদের এই আক্রমণ নেয় ভয়াবহ রূপ। গোটা অফিসটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে তারা।
খবর পেয়ে বুধবার ধ্বংসপ্রায় এই দপ্তরে ছুটে যান প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা তারাপদ বর্মন সহ পার্টি নেতা প্রবীর পাল, শুভ্রালোক দাস, উৎপল আচার্য, মিলন শীল প্রমুখ। বিজেপির এই সন্ত্রাসের রাজনীতির তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা।
 উল্লেখ্য, ৬ এর দশকের শেষের দিকে রাজ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলেই ভেটাগুড়ি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই সিপিআই (এম) দপ্তর। এখান থেকেই পার্টির কাজকর্ম পরিচালনা হতো। এরপর ৭ এর দশকে ভাঙা হয় এই অফিসটি। ৮ এর দশকের শুরু থেকে আবারও নির্মাণ শুরু হয় এই পার্টি অফিসের। ১৯৮৯ সালের ১০ডিসেম্বর নভেম্বর বিপ্লবের স্মরণে এই কমরেড হরেকৃষ্ণ কোঙার ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন সিপিআই(এম) দলের তৎকালীন কোচবিহার জেলা সম্পাদক বীরেন্দ্র চন্দ্র দে সরকার। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার পার্টি পরিচালনার ক্ষেত্রে এই পার্টি অফিসের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ২০১৬ সালে এই পার্টি অফিসটি দখল করে স্থানীয় তৃণমূল দুষ্কৃতীরা। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এখানেই বসছেন তারা। এরপর অফিসটি পুনরুদ্ধার করেন সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থকেরা। এবার রাজ্যের ক্ষমতা দখলের তৃণমূলের দেখানো পথেই হাঁটছে বিজেপি বলে অভিযোগ সিপিআই(এম) নেতৃত্বের।


 বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেতা তারাপদ বর্মন এদিন বলেন, এই পার্টি অফিসের সাথে অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। সাধারণ মানুষের দেওয়া সাহায্যে দীর্ঘদিনের চেষ্টায় তিল তিল করে গড়ে উঠেছিল এই পার্টি অফিস। রাজনৈতিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিজেপি আশ্রিতরাই হামলা চালিয়েছে এই পার্টি অফিসে। তিনি বলেন, ভারতবর্ষের সংবিধান হলো বহুদলীয় সংবিধান। এই বহুদলীয় ব্যবস্থা বহু দলের উপস্থিতিটা অত্যন্ত জরুরি।  তাদের দপ্তর থাকবে তাদের আন্দোলন থাকবে তাদের লড়াই আন্দোলন থাকবে তা না হলে গণতন্ত্র সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি থাকবে কেমন করে। তৃণমূলের সরকারটা পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু তারা আদলটা যদি বহাল থাকে তাহলে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনটা কি করলো? বিরোধী দলের উপস্থিত না থাকলে সাধারণ মানুষের সাহস কখনোই বাড়ে না, গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা কখনোই আসে না। তাই প্রশাসনকে দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সহ ঘটনার সাথে সাথে যুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারাপদ বর্মন।
নাগরিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনরকম নিষেধাজ্ঞা জারি না করা, নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমস্ত রকম দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য এবং তাদের কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনিক ভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, সম্প্রতি সিপিআই(এম) নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জির গাড়ি, যুব সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিতে আক্রমণ, সিপিআই(এম), এসইউসিআই ও ফরওয়ার্ড ব্লক দপ্তরে ভয়াবহ আক্রমণের সাথে যুক্ত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার কোচবিহার জেলা শাসককে প্রতিনিধিত্বমূলক ডেপুটেশন দেন বামপন্থী দলসমূহের কোচবিহার জেলা নেতৃত্বরা। এরপরেও এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করলো কোচবিহার জেলা জুড়ে ভেঙে পড়েছে আইনের শাসন।

Comments :0

Login to leave a comment