স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কম-আলোচিত স্থানগুলির মধ্যে মধ্য প্রদেশের সাগর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অষ্টাদশ শতকে অঞ্চলটিতে ছিল পেশোয়া ও মারাঠা শাসনের অধীন থাকলেও পরবর্তীকালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে আসে। ব্রিটিশ শাসনের ‘Saugor and Nerbudda Territories’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮১৮ সালের পর ব্রিটিশরা সাগর ও আশপাশের অঞ্চলে নিজেদের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করে। ব্রিটিশরা তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ সাগর সেনানিবাস, যা পরবর্তীকালে ১৮৫৭-র বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
১৮৫৭ সালে সাগর অঞ্চলে ব্রিটিশবিরোধী অসন্তোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাগর ও পার্শ্ববর্তী দামোহে ব্রিটিশ প্রশাসনের চালানো দমনের মোকাবিলায় আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সাগরকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বৃহত্তর বুন্দেলখণ্ডের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন বলে মত ইতিহাসবিদদের। এই প্রতিরোধের অন্যতম বৈশিষ্ট ছিল স্থানীয় বুন্দেলা শক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ।
শাহগড়ের রাজা বখত বালি শাহ এবং বানপুরের রাজা মর্দন সিংহ ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাঁদের নেতৃত্বে স্থানীয় শক্তির প্রতিরোধ সাগর অঞ্চলকে বুন্দেলখণ্ডের বৃহত্তর বিদ্রোহী পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করে।
বিদ্রোহের প্রথম পর্যায়ে সাগর জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্রিটিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ কর্মকর্তা, তাঁদের পরিবার এবং অনুগতরা সাগর দুর্গে আশ্রয় নেয়। এই দুর্গের মধ্যে আটকে পড়ে ব্রিটিশরা। ব্রিদ্রোহের তুফানে ব্রিটিশ সামরিক শক্তি বড় বিপদের আশঙ্কা করে। পাল্টা অভিযান শুরু করে বিরাট বাহিনী।
স্যার হিউ রোজের নেতৃত্বাধীন মধ্য ভারতে নিযুক্ত সামরিক বাহিনী বুন্দেলখণ্ডের দখল নিতে নামে।
১৮৫৮ সালে সাগর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ধীরে ধীরে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে।
সাগরে ১৮৫৭-র ইতিহাস তাই শুধু একটি সেনানিবাসের বিদ্রোহ নয়; স্থানীয় রাজা, জমিদার, সৈন্য ও গ্রামীণ সমাজের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা বৃহত্তর বুন্দেলখণ্ডের ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। S. N. Sen-এর Eighteen Fifty-Seven এবং R. C. Majumdar-এর The Sepoy Mutiny and the Revolt of 1857 এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বোঝার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
Sagar Mutiny: Bakht Ali-Mardan Singh vs. the British Raj
সাগর বিদ্রোহ: বখত আলি-মর্দন সিং বনাম ব্রিটিশ রাজ
×
Comments :0