গুরগাঁওয়ের গল্ফ কোর্স রোডে মহিলা বাইকারকে ধাওয়া করে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন কল্যাণ বাইনসলা। রবিবারের ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। মঙ্গলবার রাজস্থানের দৌসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গুরগাঁও পুলিশ। এই গ্রেপ্তারি বহুল চর্চিত হিট অ্যান্ড রান মামলায় বড়সড় অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার ধারাতেও মামলা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই কল্যাণ বাইনসলাকে খুঁজতে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। রবিবার সকালে গুরগাঁওয়ের গল্ফ কোর্স রোডে ঘটনাটি ঘটে। শিবানী চৌহান ওরফে সিয়া একদল বাইকারের সঙ্গে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার অভিযোগ, আচমকাই একটি গাড়ি তাদের পিছু নিতে শুরু করে। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িটি তার বাইকের খুব কাছাকাছি চলে আসায় তিনি চালককে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে বলেন। অভিযোগ, এরপরই গাড়িটির গতি বাড়িয়ে তার বাইকে পাশ থেকে ধাক্কা মারা হয়। ধাক্কার জেরে বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান সিয়া এবং কয়েক মিটার পর্যন্ত রাস্তায় ঘষটে যেতে হয় তাকে। দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। সিয়ার বাইকে লাগানো ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িটি বাইকের দিকে এগিয়ে এসে পাশ থেকে ধাক্কা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। পিছনে থাকা অন্য এক বাইকারের ক্যামেরায় করা ভিডিওতেও গাড়িচালক সিয়াকে থামার ইঙ্গিত করার পর তার বাইকের দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পরই মামলায় নতুন মোড় আসে। প্রথমে গুরগাঁও পুলিশ বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং আঘাত করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিল। কিন্তু ভাইরাল ভিডিও খতিয়ে দেখার পর পুলিশ গাড়িটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাইকারকে ধাক্কা দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। সিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এরপর মামলায় খুনের চেষ্টার ধারা যোগ করা হয়।
গুরগাঁও পুলিশের সিনিয়র আধিকারিক সন্দীপ মালিক জানিয়েছিলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে গাড়িটি ইচ্ছাকৃতভাবেই বাইকের দিকে চালানো হয়েছিল। সেই ভিত্তিতেই খুনের চেষ্টার মামলা যুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত কল্যাণ বাইনসলা অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে সিয়ার বাইকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার ‘ইন্ডিয়া টুডে টিভি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে তার গাড়ির সঙ্গে সিয়ার বাইকের সংঘর্ষ হয়েছিল। তবে তার দাবি, ইউ-টার্নের কাছে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।
বাইনসলার আরও দাবি, সিয়ার সঙ্গে থাকা বাইকারদের হামলার আশঙ্কাতেই তিনি ঘটনাস্থলে গাড়ি থামাননি। তার অভিযোগ, ওই বাইকাররা বারবার তার গাড়িকে ওভারটেক করছিলেন এবং সামনে এসে বাইকের গতি কমিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘ওরা বারবার আমার সামনে আসছিল, আবার বাইকের গতি কমিয়ে দিচ্ছিল। আমি কি সবাইকে গিয়ে ধাক্কা মারছি? সিসিটিভি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।’’
পেশায় জিমের মালিক বাইনসলা নিজেকে আন্তর্জাতিক স্তরের কাবাডি খেলোয়াড় বলেও দাবি করেন। তার বক্তব্য, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারণ ছিল নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়। ঘটনার পর তিনি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও নিষ্ক্রিয় করে দেন।
তবে বাইনসলার এই দাবি সরাসরি খারিজ করেছেন সিয়া। তার অভিযোগ, গাড়িটি ইচ্ছাকৃতভাবেই তার পিছু নিয়েছিল এবং তাকে লক্ষ্য করেই ধাক্কা মারা হয়। সিয়ার প্রশ্ন, দুর্ঘটনা অনিচ্ছাকৃত হলে গাড়িচালক কেন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন না?
একটি ভিডিও বার্তায় সিয়া অভিযোগ করেন, মহিলা বাইকার হওয়ার কারণেই তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল। তাকে থামানোর জন্য ইচ্ছাকৃত চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তার কথায়, ওই ঘটনার জেরে তার প্রাণহানিও ঘটতে পারত। ধাক্কার পর গাড়িচালক তার নিরাপত্তার বিষয়টি একবারও যাচাই করার চেষ্টা করেননি বলেও অভিযোগ সিয়ার।
Gurugram
মহিলা বাইকারকে ধাওয়া করে ধাক্কার অভিযোগ, রাজস্থানে গ্রেপ্তার গাড়িচালক কল্যাণ বাইনসলা
×
Comments :0