TMC Leader Dinhata

উদয়নের সঙ্গে আবার নিশীথেরও সঙ্গে, বেকায়দায় দিনহাটার তাপস দাস

জেলা

জয়ন্ত সাহা: দিনহাটা

দুই ফুলেই সে সমান স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন! কখনও সে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ’র ঘনিষ্ট! আবার কখনও সে বর্তমান মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিকের কাছের লোক! উদয়ন ঘনিষ্ট হয়ে হয়েছিল দিনহাটার বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। আবার দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে হয়েছিল বিজেপির জেলা কমিটির নেতা। পেয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তাও! এহেন বাহুবলী নেতাকে সবাই এক ডাকে চেনেন ‘‘বেলচা তাপস’’ নামেই! আসল নাম তাপস দাস। সে নাম অবশ্য অনেকেই মনে করে বলতে পারেন না। আর এই ‘বেলচা তাপস’ নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ‘জাহাঙ্গীর’ কিংবা ‘সওকত মোল্লার আরও এক সংস্করণ ‘বেলচা তাপসের’ অতীত।
রাজনীতিতে হাত পাকানোর আগে তাপস ছিল লরির মাল নামানোর সামান্য খালাসী। তখন বালি পাথর নামাতে বেলচা ব্যবহার করতো সে। সেই থেকে সবাই তাকে চেনে বেলচা তাপস হিসেবেই। আগাগোড়া মারকুটে স্বভাবের তাপসের ওপর নজর পরে তৎকালীন মন্ত্রী উদয়ন গুহ’র। সেই থেকে শ্রমিকের কাজ ছেড়ে তাপস মন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী। জমি দখল, থেকে বাড়ি বানানোর বালি পাথরের সাপ্লাইয়ার হয়ে ওঠে। আর উদয়নের আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নিজে এবং অন্যদের জিতিয়ে একেবারে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি তাপস দাসকে। বড়শাকদল ছাড়িয়ে দিনহাটা মহকুমা জুড়ে তখন সে বাহুবলী হিসেবেই পরিচিত। তিনতলা পাকাবাড়ি, জমি, কয়েকটা গাড়ি, অন্যত্র আরও দুটি বাড়ি। ঘাসফুলের দাপটে তাপস যেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। কিন্তু নামের আগের ওই বেলচা শব্দটা রয়েই গেছে আজও!
প্রধান হয়েই চালু করেছিল ‘তৎকাল আবাস যোজনা! মানে নগদ ২০ হাজার দিলেই সাথে সাথে মিলবে ঘর। আর লিস্ট মেনে ঘর পেতে দিতে হবে ১০ হাজার। তাপসের নামে তখন বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। ভোটে জিততে বেলচা তাপসের বাহিনী দাপিয়ে বেড়ায় দিনহাটার সীমান্তের একের পর এক গ্রাম।
২০২৩ সালে হঠাৎই উদয়ন গুহ’র সাথে মতের অমিল হতেই তাপস ঝাঁপ দেয় পদ্মবনে। হয়ে ওঠে নিশীথ প্রামানিকের ঘনিষ্ট। সবাইকে টপকে বিজেপিতেও ক্যারিশমা দেখায় সে। একেবারে দলের জেলা কমিটির সদস্য। তাকে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর প্রহরা। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও বিজেপির পক্ষে ভোট করিয়েও নিশীথ প্রামানিককে জেতাতে পারে নি বেলচা তাপস। তারপর থেকেই তৃণমূল আর পুলিস চাপ বাড়ায় তার ওপর।
ফের সেটিং করে ২০২৬’র ভোটের আগে ফিরে আসে তৃণমূলে। রাজকীয় সম্বর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেয় উদয়ন গুহ। এবারে অবশ্য বেলচা তাপসের ভোট ক্যাপচার ম্যাজিক আর কাজ করে নি। ভোট লুটের সঙ্গীরা অনেকেই তলে তলে হাত মিলিয়েছ বিজেপির সাথে। ৪ মে ফল ঘোষণার পর ঘর ছেড়েছে বেলচা তাপস। বাড়িতে ঝুলছে তালা। উধাও একাধিক গাড়ি। দিনহাটার বাতাসে খবর ভাসছে বেলচা তাপস ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে ফের বিজেপিতে ফিরছে। কিন্তু গোল বেঁধেছে অন্যত্র। কাটমানি ফেরতের দাবিতে তার বাড়ি দু’বার ঘেরাও করেছে জনতা। হয়েছে পথ অবরোধ। যারা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিল তারা জানে না বেলচা তাপস এখন কোন দলে আছে। টাকা ফেরত চাওয়া সীমা রায়, অনিমা সূত্রধর, শিবানী  রায়েরা বলছেন, ও যেই দলেই যাক আগে আমাদের টাকা ফেরত দিক। কেউ কেউ বলছেন জাহাঙ্গীর আর সওকতের মত ওরও শাস্তি হোক। তবে তার আগে আমাদের হকের টাকা ফেরত চাই।
জল মাপছে বিজেপি। বেলচা তাপসকে দলে ফেরাবে কিনা। জল মাপছে বেলচা তাপসও। ঘরে ফিরবে কিনা। মানুষের ক্ষোভ সহজে মেটার নয়। বাহুবলী বেলচা তাপস এখন বড্ড বেকায়দায়।

Comments :0

Login to leave a comment