অবৈধ গাছ কাটা ও কাঠ পাচার রুখতে বন দপ্তরকে আরও স্বচ্ছ ও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সল্টলেকে বন সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বন দফতরের আধিকারিকদের বলেন, পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধ কাঠ পাচার এবং বনজ সম্পদ লুট সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে দফতরের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গবাদি পশু পাচার, সিন্ডিকেট রাজ সহ বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করেছি। একইভাবে বন দপ্তরকেও পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধ গাছ কাটা এবং কাঠ পাচার রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।‘
বন বিভাগের কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের সচিবকে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শূন্যপদ পূরণের জন্য দ্রুত প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, এবার থেকে বনরক্ষী (ফরেস্ট গার্ড) নিয়োগ করবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শূন্যপদগুলি পূরণ করা হবে।
জঙ্গলমহল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় হাতি সংরক্ষণ এবং উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ফসল কাটার মরশুমে হাতির পাল গ্রামে ও চাষের জমিতে ঢুকে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা প্রায়শই ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আগের সরকার বন দপ্তরকে উপেক্ষা করেছে। বন সংরক্ষণ ও বন দপ্তরকে কীভাবে অগ্রাধিকার দিতে হয়, তা আমাদের ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ের কাছ থেকে শেখা উচিত।’
রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলতে সবাইকে গাছ লাগানোর আন্দোলনে শামিল হতে হবে।’
উত্তরপ্রদেশে ২৬ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ আমাদের থেকে অনেক বড় রাজ্য। কিন্তু আমরা এ বছর ১০ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য নিয়েছি।’
প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের বিধানসভা এলাকায় অন্তত এক লক্ষ চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
Suvendu Adhikari
কাঠ পাচার রুখতে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, বন দপ্তরে স্বচ্ছতার উপর জোর
×
Comments :0