রাজ্যে পালাবদলের পর উত্তরপ্রদেশ মডেলে শুরু হয়েছে বুলডোজার নীতি। রাজ্যের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন হকার উচ্ছেদ হচ্ছে বুলডোজার দিয়ে। এবার সেই বুলডোজার চলল বরাহনগর পি ডব্লিউ ডি রোডে নিবেদিতা সেতুর নিচে। সোমবার রাতে বুলডোজার অভিযান চালায় প্রশাসন। নিবেদিতা সেতুর নিচে প্রায় ২০০ টা দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হল। এই উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না-ঘটে, তাই ওই এলাকার নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। রয়েছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট বিশাল পুলিশ বাহিনী। দক্ষিণেশ্বর থানা। বরাহনগর পি ডব্লিউ ডি রোডে নিবেদিতা সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা করে পরিবার করতেন ১৭০ থেকে ১৮০ টি দোকানদার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবেদিতা সেতুর নিচে সমস্ত দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। দোকানদাররা অভিযোগ করেন আগের থেকে নোটিশ না দিয়ে এই দোকান ঘর ভেঙে দেওয়া হল। বাস সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে হাইওয়ে অথরিটি সাথে বারবার কথা বলে পুজো পর্যন্ত সময় চেয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ সোমবার রাতে হাইওয়ে অথরিটি এবং পুলিশ প্রশাসনের যৌথভাবে সমস্ত দোকান এবং বাস টার্মিনাসের বাসের ড্রাইভার কন্টাকটারদের থাকার জায়গা সবটা ভেঙে দেওয়া হয়।
অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নির্দেশের পরই বিভিন্ন জায়গার অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে প্রশাসন। কোনও বেআইনি নির্মাণ রাখা যাবে না। রেলের জায়গা দখল করা যাবে না। ফুটপাথ খালি করতে হবে, যাতে তা সাধারণ মানুষের বসবাসের যোগ্য হয়। আর এই নীতি সর্বত্র প্রয়োগ করছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় চলছে বেআইনি হকার উচ্ছেদ।
নিবেদিতা সেতুর নিচে১৩ টা রুটের বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। প্রায় দেড়শো গাড়ি চলে। ৮০০ জনের চালক এবং কন্ডাক্টার আছে। রয়েছে হোটেল, বাথরুম চালক সহকারীদের থাকার ঘর। এদিন বিনা নোটিশে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল নিমিষেই।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই বেপরোয়াভাবে পুনর্বাসনহীন হকার উচ্ছেদ শুরু করেছে বিজেপি সরকার। বুলডোজারে চলছে বস্তি উচ্ছেদও। হাজার হাজার মানুষ রুজি-রোজগার হারিয়ে নিয়ে অসহায়ভাবে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন। এব্যাপারে মামলা শুরু হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেও। মামলা চলাকালীন একাধিক এলাকায় জেসিবি চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বহু দোকান। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্ট হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিলেও চোরাগোপ্তা অনেক জায়গায় ভাঙার কাজ চলছে। কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকারের এই নির্মমতায় প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রাজ্যে। রাজ্য সরকারের এই অত্যাচার বন্ধের দাবি করেছে লালঝান্ডা। পুনর্বাসনহীন
উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ময়দানে রয়েছে সিপিআই(এম)। দাবি উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন চাই।
নিবেদিতা সেতুর নিচে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ায় বহু গরিবের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা পুনর্বাসনের দাবি করেছেন। কিন্তু সেকথা শোনার জন্যও বিজেপি নেতাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
Comments :0