Jalpaiguri

সেতুর কাজ শেষ করার দাবিতে চা শ্রমিকদের পথ অবরোধ

জেলা

সেতুর কাজ শেষ করার দাবিতে মঙ্গলবার পথ অবরোধ করেন শ্রমিকরা। অবরোধকারীরা মূলত চা শ্রমিক। এদিন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসের গেটের সামনে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। শ্রমিকরা জানান, জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন করলা ভ্যালি চা বাগানের ব্রিজের কাজ শেষ করার দাবিতে ১০ জুন বিডিওকে ‌স্মারকলিপি দিয়েছিলেন অরবিন্দ পঞ্চায়েতের সদস্যা রুবিনা মুণ্ডা সহ বাগান শ্রমিকরা। ব্রিজের সামনে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। সদর বিডিও সাত দিনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মাস শেষ হলেও কাজ হয়নি। নির্মীয়মান ব্রিজের নিচে এবং জলোচ্ছ্বাসের কারণে যাতায়াত বন্ধ হয়েছে। অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন স্কুল ছাত্র থেকে শ্রমিকরা। বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা অবরোধে নেমেছেন বলে জানান অরবিন্দ পঞ্চায়েতের সিপিআই(এম) সদস্যা রুবিনা মুন্ডা। 
এদিন বিডিও অফিসের গেটের সামনে রাজ্য সড়কের ওপর দীর্ঘক্ষণের অবরোধে এলাকায় যানজট হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে তাদের সঙ্গে বচসা এবং ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন শ্রমিকরা। কোতোয়ালি থানার আইসি ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। ঘুর পথে যাতায়াত করতে গিয়ে এদিনই রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের। ব্রিজ চালু থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতো না বলে মনে করছেন শ্রমিকরা। বিডিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ উঠে যায়। করলা ভ্যালি বাগানের চড়কডাঙ্গি লাইনের একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ভাঙা ছিল। ব্রিজটি নতুন করে তৈরির দাবি নিয়ে বাগান শ্রমিকরা  মিছিল, আসাম মোড়ের ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধে নামেন। অবরোধের পরে এই বাগানে ভাঙা ব্রিজটি পরিদর্শন করেন তৎকালীন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও মিহির কর্মকার। দুর্বল ব্রিজটি ভেঙে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কোন কারণ ছাড়াই সেতুটির কাজ আট মাস বন্ধ হয়ে রয়েছে। কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বাগান শ্রমিকদের মধ্যে। 
সিপিআই(এম) পঞ্চায়েত সদস্যা রুবিনা মুন্ডা জানান, ‘বর্ষা শুরু হয়েছে। নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছে।’ চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের করলা ভ্যালি চা বাগান ইউনিটের সম্পাদক গোবিন ওরাও, সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক শুভাশিস সরকার জানিয়েছেন, কী কারণে প্রায় আট মাস ধরে ব্রিজের কাজ বন্ধ হয়ে আছে, তা বোধগম্য নয়। দ্রুত ব্রিজটির কাজ শেষ করতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment