রুহুল আমিন
২০২১ থেকে তৃণমূলের বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে সব টাকা খরচ করেছেন শুধু কয়েকটি স্কুলে জলের ফিল্টার কিনে। কোনও উন্নয়নকল্পের জন্য বিধায়ক তহবিলের টাকা খরচ করেননি এই অভিযোগ জানাচ্ছেন খোদ গ্রামবাসীরা। নানুর বিধানসভার বামফ্রন্টের সিপিআই( এম) প্রার্থী শ্যামলী প্রধান তিনি জোর কদমে প্রচার করছে তার এলাকায়। তাঁকে কাছে পেয়েই অভিযোগ জানাচ্ছেন মানুষ। একশো দিনের কাজের টাকা, আবাস যোজনায় কাটমানি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন একালাবাসী। শ্যামলী প্রধান মানুষের এই সব সমস্যা সমাধানে নানুর বিধানসভার গণতন্ত্র পুনরোদ্ধারের লক্ষ্যে মানুষের কাছে আবেদন জানান দূর্নীতি গ্রস্থ তৃণমূল ও সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে পরাস্ত করে বামপন্থীদের হাত শক্ত করতে হবে শ্রমজীবি মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে।
নানুরের বর্তমান বিধায়ক ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বিধান মাঝি বলেছেন, ''মমতা ব্যানার্জির উন্নয়ন ও প্রকল্প দেখে মানুষ উদ্বজীবিত। প্রার্থী নিজে বলেছেন, গত পাঁচ বছরে উনি যা কাজ করেছেন সেই দেখে নানুরের মানুষ তাঁকেই ভোট দেবেন। কিন্তু নানুর বিধানসভার বাসিন্দারা অন্য কথা বলছেন, গত ২০১৬-২১ পাঁচ বছর সিপিআই(এম)র শ্যামলী প্রধান বিধায়ক ছিলেন। এবার ও নানুর বিধানসভায় তিনি প্রার্থী হয়েছেন। একজন বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে বছরে ৬০ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ২০১১ সালের পর এলাকায় ব্যাপক খুন সন্ত্রাস কায়েম করে তৃণমূল। গণতন্ত্রকে লুট করে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত আজ তৃণমূলের দখলে। বিধায়ক ফান্ডের টাকা তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতি,গ্রাম পঞ্চায়েত গুলো সিপিআই(এম)র বিধায়ক বলে সেই সময়ে বিধায়কের এলাকা উন্নয়নের টাকা বিভিন্ন পঞ্চায়েতে স্কীম দিলেও তারা রূপায়ন করেনি। বিধায়ক বাধ্য হয়ে সেই টাকা স্কুল গুলির উন্নয়নে খরচ করেছিলেন। জেলার বাকি ১০ জন বিধায়ক এর থেকে নানুরের শ্যামলী প্রধান এগিয়ে ছিলেন এলাকা উন্নয়নের টাকা সচ্ছ ভাবে খরচ করার নিরিখে জন্য।
নানুরের বাসিন্দা শিক্ষক ও সিপিআই(এম) নেতা সুদেব থান্দার রবিবার জানান, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা রাজনীতি দেখিনা। নানুরের দুটি চক্রের মধ্যে সাদিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিকাঠামো গত দিক থেকে জেলার মডেল স্কুলের তকমা পেয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের পানীয় জলের সাবমার্সিবল পাম্প থেকে শুরু করে সমস্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের টাকা শ্যামলী প্রধানের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছিল। ওই স্কুলের শিক্ষক বর্তমানে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যও। সদিনগর নানুর উত্তর ও নানুর দক্ষিণ এই দুটি চক্রের প্রায় ১০০ টি বিদ্যালয়ের পানীয় জলের সাবমার্সিবল পাম্প, শৌচাগার, বাউন্ডারি ওয়াল, শ্রেণি কক্ষ, অনুষ্ঠান মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে শ্যামলী প্রধানের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে। শুধু তাই নয় হাটসেরান্দি গ্রামেও দুটি স্কুল এ শ্যামলী প্রধানের এলাকা উন্নয়নের টাকা খরচ করেছেন ওই সব স্কুলের প্রধান শিক্ষক। অবশ্যই উনারা খুবই স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং খুব ভালো করে কাজ করেছেন।
নানুর বিধানসভা এলাকার নানুর, বড়াসাওতা ও কীর্ণাহার-২ অঞ্চল এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ গত পাঁচ বছরে নানুরের তৃণমূলের বিধায়ক বিধান মাঝি মাত্র কয়েকটি স্কুলে জলের ফিল্টার কিনে দিয়ে এলাকা উন্নয়নের সব টাকা খরচ করে দিয়েছি বলে জাহির করছেন। রাজ্য সরকার উন্নয়নের ঢাক যখন পেটাচ্ছে গ্রামের অলিতে গলিতে। ঠিক তখন কাঁচা রাস্তা ঢালাই করার দাবিতে আদিবাসীরা সম্প্রতি নানুর বিডিও অফিস ও বড়া সাওতা পঞ্চায়েতে মিছিল ও বিক্ষোভ করে বিডিওকে ডেপুটেশন দেন।
নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীকে কাছে পেয়ে এলাকার তৃণমূলের উন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন এলাকার বাসিন্দা জহর সরেন, কালো মার্ডি, উজ্বল মাঝি সহ আরও অনেকে। তারা অভিযোগ করে বলেন, "কোথায় উন্নয়ন হয়েছে? একশো দিনের কাজের টাকা, আবাস যোজনায় কাটমানি খেয়ে তৃণমূল জনগনের উন্নয়নের নামে সব লুট করে নিজেদের উন্নয়ন করেছে।" তাদের অভিযোগ, ১৫ বছর ধরে নানুরের বেল গ্রামের আদিবাসী পাড়ার রাস্তার বেহাল অবস্থা, রামকৃষ্ণ পুরের গ্রাম ঢোকার রাস্তা বেহাল, মোহনপুরের কয়েকটি পাড়ার মাটির কাঁচা রাস্তা। ওই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যলয়ের শিশুরা এক হাঁটু কাদা বেয়ে স্কুলে যায়। আদিবাসীদের দাবি ছিল ওই কাঁচা রাস্তা ঢালাই করতে হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। এদিকে বেহাল শিক্ষা ও গ্রামীন স্বাস্থ্য কেন্দ্র,অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, ভাঙ্গা ব্রীজ। নানুর ও কীর্ণাহার বাজারের বেহাল নর্দমা। উজ্বল মাঝি অভিযোগ করে জানান, গত পাঁচ বছরে নানুরের বিধায়ক তহবিল প্রকল্পের টাকায় কোনও উন্নয়ন আমাদের চোখে পড়েনি। উন্নয়নের নামে সব লুট হয়েছে।
Comments :0