শেষ দফার ১৪২ আসনের প্রচার শেষ। রাত পোহালেই শুরু হয়ে যাবে ভোট গ্রহণের কাজ। দীর্ঘ দুই-আড়াই মাসের নিবিড় প্রচারের পর নির্বাচকরা ঠিক কি সিদ্ধান্ত নিলেন জানা যাবে ৪ মে। আর আগে ভোটের ফলাফল নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। তৃণমূল গোড়া থেকে জোর দিচ্ছে তারা ২০০-র বেশি আসনে জিতবে। দেশ দুনিয়া ভুলে রাজ্যে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে মোদী-শাহরাও বলছেন তারাও ২০০ আসন পাবেন। অন্যদিকে আইএসএফ’র সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বামপন্থীরা পুনরুত্থান বা পুনজার্গরণের আশায় ভর করে অনেক দূর পর্যন্ত যাবার কথা ভাবছে।
রাজনৈতিক ও ভোট বিশেষজ্ঞরা নানান সম্ভাবনার কথা বললেও এবারের নির্বাচনকে সরল অঙ্কে মেলানো যাবে না। এমন অনেক নতুন নতুন ফ্যাক্টর এই নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে যেগুলি আগের নির্বাচনগুলিতে তেমনভাবে ছিল না। তাই দু’শো আসনে জিতবো, আড়াইশো আসনে জিতবো বলাটা নির্বোধের মতো দায়িত্বহীন উচ্চারণ বলে মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
তৃণমূল এবার যে কোনও অবস্থাতেই ভালো অবস্থায় নেই সেটা সবচেয়ে ভালো জানে তৃণমূল নেতারা। উন্নয়নের প্রশ্নে তৃণমূলকে অকপটে সমর্থনের লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। চুরি, দুর্নীতি, লুটে খাওয়ার আদর্শ পাঠশালা তৃণমূল। অর্থনীতির মূল জায়গাটাকে ধ্বংস করে মানুষকে দয়ার দান ভাতা নির্ভরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। মানুষের শ্রম, দক্ষতা, শিক্ষা, উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ক্ষমতাকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে অশিক্ষার, অর্ধশিক্ষার, নিম্ন দক্ষতার কম মজুরির শ্রমিকে রূপান্তরিত করেছে বাংলার মানুষকে। তারপরও কাজ না পেয়ে তাদের পরিযায়ী হতে হয়। তাই সরকারবিরোধী মানসিকতা এবার বেশ জোরালো। এসআইআর’র ফলে মৃত ও ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ যাবার ফলে তৃণমূলের ভোট অনেক কমবে। কারণ এই ভোট এতকাল তৃণমূলের বাক্সে ফেলা হতো। তেমনি জোর করে অন্যের ভোট দিয়ে দেবার প্রবণতা এবার ভীষণ কম। আগে পরিযায়ী শ্রমিকরা বেশিরভাগই ভোট দিতে আসত না। এবার প্রায় সকলেই ভোট দেবার জন্যই বাড়ি ফিরছে। রাজ্যে কাজ নেই বলে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আবার বাইরে কাজ করতে গিয়েও বিজেপি সরকারের অত্যাচার, অসম্মানের শিকার। তাই পরিযায়ী ভোট দুই শাসক বেশি আশা না করাই ভালো।
মোদী-শাহ’রা যতই প্রতিশ্রুতি গ্যারান্টি বিলি করুন ডাবল ইঞ্জিনের রাজ্যে তাদের ট্র্যাক রেকর্ড মোটেই ভালো নয়। কেন্দ্রে ও রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি’র দেওয়া সিংহভাগ প্রতিশ্রুতি পালন হয়নি। মোদীর নিজের দেওয়া গ্যারান্টির ব্যর্থতা হাস্যকর জায়গায় এসে ঠেকেছে। যে প্রতিশ্রুতি এখানে দেওয়া হচ্ছে সেগুলি অন্য রাজ্যে অনেক আগে দেওয়া হলেও পালন হয়নি। তাই ভাঁওতা দিয়ে কাজ হবে না। ২০০ আসন দূরের কথা তৃণমূল ১৫০ আসন পাবে কিনা সন্দেহ আছে। আর বিজেপি’র পক্ষে আগের নির্বাচনের সংখ্যা ধরে রাখাই অসম্ভব। তাই অনেকে ত্রিশঙ্কুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তৃণমূল যদি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় অথবা ১৫০-র আশেপাশে থাকে তখন বিজেপি তাদের বানিয়া নীতি কাজে লাগিয়ে শত শত কোটি টাকা ঢালবে বিধায়ক কিনতে। দলে দলে তৃণমূল ছেড়ে যেতে চাইবে বিজেপি-তে কিন্তু এসআইআর করে মানুষকে যেভাবে ক্রিমিনালের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ ভোটাররা বদলা নিয়ে বিজেপি-কে ৫০-র নিচেও নামিয়ে দিতে পারে। দুই শাসকের বাইরে মানুষের জন্য প্রকৃত লড়াইয়ের ময়দানে একমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে বাম ও তাদের সহযোগীরা। তাই এবারের ভোটে নির্ণায়ক শক্তি হিসাবেই উঠে আসতে চলেছে বামপন্থীরা। তৃণমূল বা বিজেপি-কে ভোট দিলে তাদের বিধায়করা ধান্দার খোঁজে দল বদল করবে নিশ্চিতভাবে। তাই কোনও ফুলেই ভরসা রাখা যাবে না। আস্থা ও ভরসা রাখতে হবে বামপন্থীদের উপর। তৃণমূল তাদের লুটের ভোট ও সংখ্যালঘু ভোট হারিয়ে কোণঠাসা। এসআইআর সন্ত্রাসে বিজেপি হারাবে সংখ্যাগুরুদের ভোটও রুজি-রুটি লড়াইয়ের একমাত্র সাথি বামেরাই হয়ে উঠতে পারে মানুষে প্রথম পছন্দ। অতএব বামপথই বাংলার পথ।
The Red Flag is Glowing
দুই ফুলই ফিকে উজ্জ্বল শুধু লাল নিশান
×
Comments :0