Kharagpur tmc bjp

খড়গপুরে আদিবাসী মহিলার জমি দখলের একযোগে নামলো তৃণমূল-বিজেপি

জেলা

খড়গপুর ১ নং গ্রামীন ব্লকের বড়কোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূল নেতা আদিবাসী মহিলার চাষের জমিতে ছাই পাথরের ছবি।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও বদলায়নি চরিত্র। এক আদিবাসী মহিলাকে চাষের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে রাতের অন্ধকারে ড্রাম্পারে করে নিয়ে এসে ভরাট করা হলো কালো ছাই সহ পাথর নুড়ি। চাষের জমি অকেজো করে দখল নেওয়ার জন্য এমন কাজ করলো তৃণমূল কংগ্রেসের উপপ্রধান সহ অঞ্চল নেতা। এমনকি থানায় অভিযোগ জানালেও আজ অবধি পুলিশ প্রশাসন নীরব থেকে ঐ দিনমজুর মহিলাকে কোনও  সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ। উল্টে প্রানে মারার হুমকিতে পরিবারটি অসহায়। এই জমি দখলে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতারাও যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ফলে পুলিশ প্রসাশনও নীরব। এই ঘটনা খড়্গপুর গ্রামীন ১ নং ব্লকের বড়কোলা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার সতকুই মৌজার। 
অভিযোগকারী মহিলা পানো মুদি বলেন, "সৎকুইয়ে তার দাদু বয়রা হেমরমের ৪৪ ডেসিমেল জমি আছে। দীর্ঘ কাল ধরে তারা ওই জমি চাষ করে আসছেন। এবছর চাষের জমি থেকে সরষে তোলার পর দেখেন তাদের জমিতে নুড়ি পাথর ঢেলে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করার তিন মাস পার হলেও পুলিশ প্রসাশন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এখন আবার আচমকাই ওই জমির উপরে কালো ছাই ফেলে দখল করে ওই এলাকার গ্রামপঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান রশিদ মল্লিক ও তৃণমূল নেতা শেখ সানোয়ার। তারা দাবি করে ওই জমি তারা কিনে নিয়েছে। কিন্তু পানোর বক্তব্য, তারা ওই জমি বিক্রি করেনি। জমিতে কালো ছাই ফেলতে বাধা দিলে আদিবাসী মহিলাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়, তার জাত তুলে গালিগালাজ করেরশিদ মল্লিক। পুনরায় এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ জানান খড়গপুর লোকাল থানায় পানো মুদি ও তার পরিবার।কিন্তু পুলিশ রশিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। উল্টে অভিযোগ জানানোর পর থেকেই লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে রশিদ। এই প্রাননাশের হুমকির ঘটনাও আবারো অভিযোগ জানাতে লোকাল থানায় যান পানো।"


কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এখনও অবধি অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব রয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।  অসহায় আদিবাসী পরিবারটি এমন ঘটনায় আতঙ্কিত। ভয়ে ভয়ে গ্রামে রয়েছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ এই তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি দলের নেতা কর্মীদের গভীর সম্পর্ক। ওরা রাতে এক সঙ্গে বসে আড্ডা মারে। এই ভাবে ওরা জমি দখল করে এক সময় রশ্মি মেটালিক কয়েক হাজার বিঘা জমি তুলে দিয়েছে। এই জমিও দখল করে কোনও সংস্থার হাতে তুলে দিতে ছাই পাথর ফেলে চাষ জমিকে অকেজো করে দখল করতে চায়। রং বদলালেও স্বভাব চরিত্র কোনোটাই পরিবর্তন হয়নি প্রশাসন সহ নেতাদের।


 

Comments :0

Login to leave a comment