Cooch Behar

উত্তরের নদী গুলিতে বাড়ছে জলস্তর, শঙ্কায় কোচবিহারের মানুষ

জেলা

মাথাভাঙ্গা কেদারহাট এলাকায় জলমগ্ন রাস্তা। ছবি:- অমিত কুমার দেব।

অবিরাম বৃষ্টিতে জল বেড়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীগুলির আর এতেই বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকা। ইতিমধ্যেই জেলার মাথাভাঙ্গা মহকুমার একাধিক এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে নদীর জল। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জলঢাকা নদীর জল বাড়ায় প্লাবিত মাথাভাঙ্গা ১নং ব্লকের কেদারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলঢাকা নদীর জলে প্লাবিত বহু বাড়ি। নদীর জল গ্রামে ঢুকে প্লাবিত কেদারহাটের গিলাডাঙ্গা, জোড়শিমুলি এলাকা। আতঙ্কিত এলাকার সাধারণ মানুষ। জল পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
অন্যদিকে মানসাই নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মাথাভাঙ্গা ২নং ব্লকের পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের খাটেরবাড়ি ১১৮ নং বুথ এলাকায়। সবকিছু এলাকায় নদীর জল ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ বরাইবাড়ির লালন পাড়া সহ বরাইবাড়ির বেশ কিছু এলাকা সহ বেশকিছু বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। 
রবিবার খাটেরবাড়ি গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাত থেকেই টানা বৃষ্টির ফলে মানসাই নদীর জল দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এরপর নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং একের পর এক বাড়ি প্লাবিত হয়। বাড়িঘরে জল ঢুকে পড়ায় মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বহু পরিবারকে জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে। 
স্থানীয়দের দাবি, নদীর জলস্তর আরও বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে কোচবিহার শহরের নিকাশি ব্যবস্থা। তাই বর্ষা শুরু হতেই  চিন্তার ভাঁজ রাজার শহরের নাগরিকদের কপালে। প্রতিবছরের মতো এবারও সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন এই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। শনিবার শেষ রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় কোচবিহার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। এই জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এই শহরের নাগরিকদের পাশাপাশি পথ চলতি মানুষদের। এক চরম সংকটের মুখে শহরবাসী।

 

Comments :0

Login to leave a comment