Passport and SIR

এসআইআর-এ নাম বাদ পড়লে পাসপোর্ট বাতিল কেন? বিদেশ মন্ত্রীকে চিঠি সিপিআই(এম) সাংসদের

জাতীয়

‘দ্যা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের পাসপোর্ট নবীকরণ আটকেছে এসআইআর-এ নাম না থাকায়।

এসআইআর-এ নাম না থাকলে নাম বাদ পাসপোর্টে। আবার বিদেশ মন্ত্রক বলছে পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, কেবলই অন্য দেশে যাতায়াতের নথি। 
ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে চিঠি দিলেন সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস। 
কলকাতা কেন্দ্রীক ‘দ্যা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের পাসপোর্টের নবীকরণ বাতিল হয়েছে। কলকাতা পুলিশ বিরূপ রিপোর্ট পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের রিপোর্টে এসআইআর-এ নাম না থাকার উল্লেখ করা হয়েছে। 
দিনকয়েক আগেই বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। দেশজুড়ে তা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মাঝেই নতুন ঘটনা সামনে এসেছে। 
ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশনও।
ব্রিটাস বিদেশ মন্ত্রকে বলেছেন, ‘‘১৯৬৭’র পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নথি দেয় সরকার। তার জন্য অন্য বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হলেই পাসপোর্ট অফিস আবেদন মঞ্জুর করে। তা’হলে এসআইআর-এ নাম না থাকলে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ নবীকরণের আবেদন খারিজ করবে কোন যুক্তিতে। বিশেষ করে যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়ে রেখেছেন।’’ 
ব্রিটাস আইনি প্রশ্নও তুলেছেন। বিতর্কিত এসআইআর, যা নিয়ে লক্ষ লক্ষ আবেদন ঝউলে রয়েছে ট্রাইবুনালে, তার ভিত্তিতে অন্য সরকারি নথির স্বীকৃতি নির্ভর করবে কেন, তুলেছেন সে প্রশ্ন।
ব্রিটস বলেছেন, ‘‘পাসপোর্ট আইনে নবীকরণের আবেদন খারিজের নির্দিষ্ট ভিত্তি বলা রয়েছে। ভুল বা অসত্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তথ্য চেপে দেওয়ার মতো কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে। কিন্তু আইনে বলা নেই এমন কোনও কারণে কিভাবে বাতিল হচ্ছে আবেদন!’’
ব্রিটাস বলেছেন, ‘‘রাজাগোপাল রামদাসের পাসপোর্ট ২০০৬, ২০১৫ সালে পুনর্নর্বীকরণ হয়েছিল। তাঁর নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হয়েই নিশ্চয় পাসপোর্ট কর্তেপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তা’হলে আজ তাঁকে নিয়ে সন্দেহ কেন।’’
সুপ্রিম কোর্টের দু’টি রায়ের উল্লেখ করেছেন ব্রিটাস। সেই রায়ে ‘যাতায়াতের নথি হিসেবে পাসপোর্টকে সংবিধানের ২১ ধারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত’ বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়েরও উল্লেখ করেছেন ব্রিটাস। ব্রিটাস বিদেশ মন্ত্রীকে মনে করিয়েছেন যে এসআইআর-কে সংবিধান সম্মত আখ্যা দিলেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব স্থির করতে পারে না। নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য ভোটার তালিকা তৈরি করে। এসআইআর কেবল সেই ভোটার তালিকা সম্পর্কিত একটি প্রক্রিয়া।

Comments :0

Login to leave a comment