এনসিপিআইকে সাথে নিয়ে কি রাজ্যে একসাথে চলবে বিজেপি? রাজ্য থেকে কি তাহলে ৩২ জন এনডিএ সাংসদ? উত্তর এখনই দিতে পারছে না পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এনডিএ বৈঠকে এনসিপিআই নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ওরা আমাদের লাভ লেটার দিয়েছে। বিয়ে এখনও হয়নি।’
তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ তৃণমূলের হাত ছেড়ে এনসিপিআই নামে একটি দলের সাথে যুক্ত হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়ে দিয়েছেন এনডিএ’র সাথে যুক্ত হয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের কাজ করবে। কাকলিরা এই কথা বললেও রাজ্য বিজেপি তাদের এনডিএ বা জোট সঙ্গী বলে এখনই মানছেন না। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে এই দলকে সাথে নিয়ে বিজেপি লড়াই করবে কি না তা নিয়েও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই জানিয়েছেন দেবজিৎ সরকার। তার কথায়, কিছু সিদ্ধান্ত হলে সবাই জানতে পারবে।
এই এনসিপিআই কে রাজ্য বিজেপি কী ভাবে দেখছে? দেবজিৎ সরকারের কথায়, একটি রাজনৈতিক দল অন্য রাজনৈতিক দলকে যেই চোখে দেখে সেই চোখেই দেখছি আমরা।
প্রশ্ন অন্য জায়গায়, নির্বাচনী ফলপ্রকাশের পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেছিলেন তৃণমূলের কাউকে দলে যুক্ত করা হবে না। কিন্তু পরে তিনিই আবার ভাগ করেছেন ভালো তৃণমূল এবং খারাপ তৃণমূল। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যাওয়ার পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষদের ভালো তৃণমূল বলেও সামাজিকমাধ্যমে বিভিন্ন ট্রোল দেখা গিয়েছে।
ওপর তলার ভালো তৃণমূলরা হয় সরাসরি না হলে ঘুরিয়ে বিজেপির ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়েছে। তাহলে নীচে ভালো তৃণমূলদের কি হবে? তাদেরও কি আশ্রয় দেবে বিজেপি? দেবজিৎ সরকারের কথায়, ‘বিজেপি কোনও হোটেল নয়। যখন খুশি চেক ইন করবো আর ইচ্ছামতো বেড়িয়ে যাবো। সাংগঠনিক বিচারধারাকে মাথায় রেখে দল চলে। আমাদের একটা রাজনৈতিক বিচারধারা রয়েছে। সেই ধারা মেনেই আমরা চলবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন মাস রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কিছু না বলা পর্যন্ত দলে কোন যোগদান হবে না।’
বিজেপি চলে আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী ভাবধারাকে মাথায় রেখে। তাহলে কি একদা আরএসএসের হাতে তৈরি তৃণমূলের সাথে যুক্ত থাকা কাকলি, সুদীপদের মধ্যে সেই ভাবধারার ছোঁয়া আছে বলেই কি তাদের এনসিপিআইতে যুক্ত করার রাস্তা করে দেওয়া হলো? দেবজিৎ সরকার তা মানতে নারাজ। তার কথায়, ‘রাজনীতিতে কিছু কিছু সময় ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেই থাকতে পারে, ঘটেও। এই ব্যতিক্রম কখনও নিয়ম হতে পারে না।’
Comments :0