TMC

তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র, নির্বাচন কমিশনে পৃথক চিঠি মমতা শিবিরের

রাজ্য

তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে চলা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মঙ্গলবার আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মমতা ব্যানার্জির অনুগত শিবির দাবি করেছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাকে দলীয় চেয়ারপার্সনের পদ থেকে অপসারণের ঘোষণা দেওয়ার আগেই নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটি (ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি) গঠন করে তার তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।
সূত্রের দাবি, বিদ্রোহী শিবির যখন নিজেদের সাংগঠনিক অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই মমতা দলীয় সংগঠনের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার পদক্ষেপ নেন। এর ফলে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মমতা ঘনিষ্ঠ এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, গত শনিবার দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং ২৪ সদস্যের জাতীয় কার্যকরী কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। সোমবার দুপুরে সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। তার কয়েক ঘণ্টা পরই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী কলকাতায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে মমতা ব্যানার্জিকে দলীয় চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরানোর কথা ঘোষণা করে।
নির্বাচন কমিশনে মমতা ব্যানার্জির গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া তালিকায় মমতা ব্যানার্জিকে চেয়ারপার্সন, সুব্রত বক্সীকে সহ-সভাপতি, অভিষেক ব্যানার্জিকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক, ডেরেক ও'ব্রায়েন ও দোলা সেনকে যুগ্ম সম্পাদক এবং শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির সোমবার ঘোষণা করে যে মমতা ব্যানার্জিকে চেয়ারপার্সনের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা ৩০ সদস্যের একটি পৃথক জাতীয় কার্যকরী কমিটিও গঠন করেছে।
মমতা শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনে পাঠানো নতুন কমিটির তালিকা আগের সাংগঠনিক কাঠামোর তুলনায় আলাদা এবং বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতার নাম সেখানে রাখা হয়নি। সম্প্রতি গঠিত কার্যকরী কমিটির সদস্য থাকা অরূপ বিশ্বাসও সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অরূপ যোগ দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে। 
এদিকে, দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং সাবিনা ইয়াসমিন-সহ একাধিক নেতাকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোন সাংগঠনিক কাঠামোকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেবে নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি কমিশনের পাশাপাশি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে যার কাছে দলীয় প্রতীক থাকবে তার হাতেই থাকবে কোটি কোটি টাকার দলীয় তহবিল।

Comments :0

Login to leave a comment