মলয়কান্তি মণ্ডল: রানিগঞ্জ
শীতের শেষ থেকে কয়লাঞ্চলে আদিবাসী পাড়ায় ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। নানান রঙে আদিবাসী পাড়ার ঘরের দেওয়াল সেজে ওঠেছে। ক্লান্তি নেই আদিবাসী গ্রামের মহিলা পুরুষদের। দিনের সূর্য ডুবল। ভেসে আসছে একের পর এক গান। সঙ্গে নাচ, বাজছে ধামসা-মাদল। বসন্ত রঙ ধরিয়েছে আদিবাসী পাড়ায়। প্রতি বছরের মতো বসন্ত বরণের জন্য "বাহা" উৎসবে মেতে উঠেছে কয়লাখনি এলাকায় আদিবাসী পাড়া। "বাহা" শব্দের আক্ষরিক অর্থ ফুল। ফুলের ভূমিকা হল সৃষ্টি। নতুন জীবনের জন্যই তার জন্ম। এবছর বাহা উৎসবে কয়লাঞ্চল জুড়ে মহুল ফুল, শাল ফুল মিললেও লাল পলাশ পর্যাপ্ত নয় । মহুল ও শাল ফুল দিয়ে জোহার থানে পুজো ও এক পংক্তিতে বসে খাওয়া দাওয়া সেরে আদিবাসী রমণীরা লাল পলাশ মাথায় গুঁজে নৃত্যে মেতে উঠে। এবারে বাঁশড়ায় লাল পলাশ না মেলায় আক্ষেপ মহিলাদের। আমরাসোতা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় হেমব্রম জানান, দূষণের কারণেই পলাশ ফুল পাওয়া যাচ্ছে না।
বাহা উৎসবে আদিবাসী রমণীরা পলাশ ফুল সহ বিভিন্ন ভেষজ ফুল সহযোগে জল দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হয় একে অপরকে। এভাবেই চলে হোলি খেলা। কোন ক্যামিকেল রং ব্যবহার হয় না। রানিগঞ্জের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তিন দিন ধরে চলছে বাহা উৎসব । চেলোদ আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা রেবু মুর্মু জানান, বাহা উৎসবের মধ্যেই নিহিত আছে বসন্তের আহ্বান। এই সময় প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসছে।পুরনো পাতা খসে নতুন পাতা গজাচ্ছে। নতুন ফুলে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতি। সেই পরিবর্তনকে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রকৃতিকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করে ধামসা মাদলের তালে নাচে গানে মুখরিত হয় আদিবাসীরা।
এবছরের বাহা উৎসবের বিশেষ উপাদান হিসেবে পরিচিত পলাশ ফুল না ফোটায় উৎসবকে কিছুটা ম্লান করেছে। জল-জমি- জঙ্গল থেকে সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছে কয়লাঞ্চলের আদিবাসীরা।
Comments :0