IRAN USA

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে সই করলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ভার্সাই প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক নৈশভোজে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ম্যাক্রোঁ জানান, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ রাতে ভার্সাইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে সই করেছেন। এই চুক্তি স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে এবং হরমুজ প্রণালীর পুনরায় উন্মুক্তকরণ নিশ্চিত করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।’
ইরানও চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-কে বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত পাঠে দুই দেশের রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেছেন। এখন চুক্তির বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’
মূলত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা ছিল। ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ নামে পরিচিত এই নথিতে সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে, অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতির মতোই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে এবং এর জন্য কোনও অতিরিক্ত ফি নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রায় ১১০ দিনব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটল বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, এই সমঝোতা তার অবসানের পথ তৈরি করল।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার ফলাফলই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Comments :0

Login to leave a comment