Modi brigade

মোদীর মুখে গরিব কল্যাণ, গরিবের টাকা লুঠ করা তৃণমূলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে নীরব

জাতীয় রাজ্য

‘তৃণমূল ক্ষমতা থেকে গেলে বাংলার গরীব মানুষ আবার যোজনার বাড়ি ফাবে। বিনামূল্যে তারা সুচিকিৎসা পাবে। এটা মোদী গ্যারেন্টি।’ ব্রিগেডের সমাবেশ থেকে একথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘কাটমানি না দিলে এরাজ্যের গরিব মানুষ কোনও সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পায় না। এরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি হয়েছে গরিব মানুষরা ঘর পায়নি।’ প্রধানমন্ত্রী এদিন ব্রিগেডের সভা থেকে আবাস যোজনার দুর্নীতি নিয়ে যেই কথা বলছেন তা সঠিক হলেও এই দুর্নীতির সঠিক তদন্ত কেন করল না কেন্দ্রীয় সরকার রয়েছে সেই প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় টিম এসে রাজ্যে ঘুরে গিয়েছে রাজনৈতিক ভাবে হাওয়া গরম করা হয়েছে, কিন্তু তৃণমূলের যেই নেতা মন্ত্রীরা এই লুঠের সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে একটাও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সারদা, নারদায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি বলেন, ‘আমরা অনুপ্রবেশ মুক্ত দুর্নীতি মুক্ত বাংলা গড়তে চাই।’ 
নারদায় তোয়ালে মুড়ে টাকা নিতে দেখা শুভেন্দু আজ মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পাশে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে বার বার আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সিবিআই ইডিকে। এরাজ্যে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটাও তদন্ত শেষ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গুলো। যার থেকে বোঝা গিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপির সেটিং-এর রাজনীতি। 
শুধু আবাস যোজনার দুর্নীতি নয়। ১০০ দিনের কাজের টাকাও লুঠ হয়েছে রাজ্যে তারও কোন সঠিক তদন্ত হয়নি। আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর সামনে আসে রাজ্যের স্বাস্থ্য দুর্নীতি। অপরাধীরা এখনও কোন শাস্তি পায়নি। প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেছেন, আরজি করের ঘটনা রাজ্যের মানুষ ভোলেনি, এই সরকারি অপরাধীদের আড়াল করে। বলে রাখা ভালো, আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশ যেই তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিল কার্যত তাকেই শিলমোহর দিয়েছে সিবিআই। বামপন্থীরা বার বার দাবি করে এসেছে আরজি করের ঘটনার প্রমান লোপাট করা হয়েছিল তৎকালিন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের নেতৃত্বে। সিবিআই বিনীত গোয়েলকে একবারের জন্যও ডেকে পাঠায়নি। উল্টে কলকাতা পুলিশের তদন্তের সাথে সহমত প্রকাশ করেছে। প্রথমে সিবিআই তদন্তের ওপর ভরসা রাখলেও পরবর্তীকালে সেই তদন্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা গিয়েছে নির্যাতীতার বাবা মাকে। 
এদিন প্রধানমন্ত্রী নারী নিরাপত্তা নিয়ে সভা থেকে সরব হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলারা নিরাপদে থাকবেন। উল্লেখ্য বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে নারী নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েছে। পাশের রাজ্য ওড়িশা তার প্রমান। এছাড়া দেখা গিয়েছে ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা কর্মীরা জেল থেকে মুক্ত হলে তাদের মালা পড়িয়ে বরণ করা হয়েছে জেলের বাইরে।
স্বাভাবিক ভাবেই এদিনও প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছে অনুপ্রবেশের কথা। মোদী বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারিদের জন্য রাজ্যে মানুষের বিপদ বাড়ছে। রাজ্যের মানুষের জমি, কাজ কেড়ে নিচ্ছেন অনুপ্রবেশকারিরা।’ 
রাজ্যে এসআইআরের প্রথম থেকেই অনুপ্রবেশ নিয়ে হাওয়া গরম করেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারি বার বার দাবি করে এসেছে এক কোটি রোহিঙ্গা ধরা পড়বে। কিন্তু এসআইআরের খসড়া তালিকায় যেই নাম বাদ গিয়েছে সেই নাম গুলো মৃত এবং ভুয়ো ভোটারদের। কোন রোহিঙ্গা নেই। তবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। কিন্তু এই বিবেচনাধীন ভোটাররা কেউ অনুপ্রবেশকারি নয়। নামের বানান বা পদবির বানান ভুলের জন্য ডাকা হয়েছে অনেককে। আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের বিবেচনাধীন রেখে তাদের হেনস্থা করা হচ্ছে যা নিয়ে সরব হয়েছে সিপিআই(এম)।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের যুবকদের কাজ নেই। তাদের অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে কাজের জন্য।’ উল্লেখ্য বাংলাদেশী তকমা দিয়ে ভিন রাজ্যে আক্রমণ করা হয়েছে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর। মৃত্যু হয়েছে অনেকের। প্রতিটা ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে যেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি তেমন কেন্দ্রীয় সরকারও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আর এদিন প্রধানমন্ত্রী নীরব থেকেছে ভিন রাজ্যে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে।

Comments :0

Login to leave a comment