সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে থাকার মধ্যেই সদ্য এনডিএ-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার প্রাতঃরাশ বৈঠকে বিরোধী শিবির থেকে সম্প্রতি এনডিএ-তে যোগ দেওয়া ২৬ জন সাংসদকে সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে সম্প্রতি উদ্ধব থ্যাকারের শিবসেনা ছেড়ে শিন্ডে শিবসেনায় যোগ দেওয়া ছয় সাংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কাউকে কোনও চিন্তা করতে হবে না। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। এনডিএ একটি পরিবার, শরিক দলগুলির পাশে আমরা সবসময় রয়েছি।’
সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদ এবং শিন্ডে শিবসেনায় যোগ দেওয়া ছয় জন প্রাক্তন উদ্ধব শিবসেনা সাংসদ। তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে এবং সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সংসদীয় বিতর্কে অংশ নিতে হবে।
মোদির কথায়, ‘সংসদের ইতিহাস নিয়ে প্রচুর তথ্য ও নথি রয়েছে। সেগুলি পড়ুন, নিজেকে প্রস্তুত করুন এবং সংসদীয় আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিন।’
শুধু সংসদীয় ভূমিকা নয়, নিজের রাজ্য ও লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নিজ নিজ রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করুন। রাজ্যের উন্নতি হলেই দেশের অগ্রগতি সম্ভব।’ শিন্ডে শিবসেনার সাংসদদের উদ্দেশে তার বার্তা, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে। উন্নয়নমূলক কাজে কোনও বাধা এলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (পিএমও) সঙ্গে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেন তিনি।
পরে শিন্ডে শিবসেনার সাংসদদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মারাঠি ভাষায় তাদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এনডিএ-তে প্রত্যেকের সম্মান থাকবে, প্রত্যেকেই কাজের সুযোগ পাবেন।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, শুধু এনডিএ-র সাংসদ নন, দেশের প্রতিটি সাংসদের সঙ্গেই তিনি রয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী অপসারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল পাস করাতে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে এনডিএ-র শক্তি বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিজেপি।
সাম্প্রতিক যোগদানের ফলে লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা ২৯৩ থেকে বেড়ে ৩১৯-এ পৌঁছেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য এখনও ৪১টি আসনের প্রয়োজন হলেও, নতুন সাংসদদের সামনে এনে এবং তাদের সমান গুরুত্ব দিয়ে এনডিএ স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, জোটে নতুন ও পুরনো সদস্যদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ রাখা হবে না।
উল্লেখ্য তৃণমূলের প্রাক্তন নেত্রী এবং বর্তমানে এনসিপিআই-এর সভাপতি তথা চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সম্প্রতি এনডিএ-র সংসদীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং এবং নীতিন গডকড়ীর পাশে সামনের সারিতে বসানো হয়েছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমেও নতুন যোগ দেওয়া সাংসদদের প্রতি বিজেপির আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে।
NDA Modi
সংসদের অচলাবস্থার মাঝেই নতুন এনডিএ সাংসদদের বার্তা মোদীর
×
Comments :0