অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগের তদন্তের একাধিক দিক ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হয়েছে। আগামী মাসের শেষের মধ্যে আদালতে চার্জশিট পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অযোধ্যার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ গৌরব গ্রোভার।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গ্রোভার জানান, তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। সেই সময়সীমার মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। তদন্তের অগ্রগতি তিনি নিয়মিত নজরে রাখছেন এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছেন বলে জানান।
তদন্তের ক্ষেত্রে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট-এর ভূমিকা নিয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। গ্রোভার জানান, সিট কোনও পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে না। বরং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত পরামর্শদাতা হিসেবে পুলিশের তদন্তে সমন্বয় করছে। সিট-এর চেয়ারম্যান লখনউয়ের আইজি কিরণ এস। তার পাঁচ বছরের সিবিআই-তে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও জানান গ্রোভার।
মন্দির সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি। তবে এর আগে সিট-এর তরফে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
প্রণামী তছরুপের অভিযোগে গত ২৫ জুন অযোধ্যার রাম জন্মভূমি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই মামলায় পুলিশ আট জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী টিন্নু যাদব, টাকা গোনার দায়িত্বে থাকা সুভাষ শ্রীবাস্তব, রামশঙ্কর মিশ্র, মনীশ যাদব, করুণেশ, লাভকুশ মিশ্র, অনুকল্প এবং অবিনাশ শুক্লা।
পুলিশ আট অভিযুক্তকেই হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নজর রাখছে। গত ২৭ জুলাই উত্তরপ্রদেশ সরকার শীর্ষ আদালতকে জানায়, রাম মন্দিরে দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইজি কিরণ এস-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট সিট-এ একজন ফরেন্সিক অডিটরকে পঞ্চম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। সিট-কে প্রথম স্ট্যাটাস রিপোর্টও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে উত্তরপ্রদেশ সরকারের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, শীর্ষ আদালতের পরামর্শের পর গত ২৫ জুলাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সিট গঠন করা হয়েছে। আইজির পাশাপাশি ওই দলে একজন ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক, একজন সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রয়েছেন।
এর আগে ২০ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারকে রাম মন্দিরের দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ তদন্তে সিট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে অবস্থান জানাতে বলেছিল।
এদিকে, ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালিকা মিশ্র জানিয়েছেন, চম্পত রাই, অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তারা তৈরি। তার দাবি, এফআইআর-এ যদি ওই তিন জনের নাম না থাকে, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে শীঘ্রই আদালতের দ্বারস্থ হবে বার অ্যাসোসিয়েশন।
রাম মন্দিরের দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং সিট গঠন নিয়ে চলছে তরজা। আগামী মাসের শেষে পুলিশের চার্জশিট পেশের পর মামলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Ram Mandir Theft
রাম মন্দিরের প্রণামী চুরি কাণ্ডে তদন্ত প্রায় শেষ, আগামী মাসের শেষে চার্জশিট
×
Comments :0