Fire in Dhupguri

ধূপগুড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত ৭টি দোকান

জেলা

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ধূপগুড়িতে। শনিবার রাতে ধূপগুড়ি ব্লকের ওভারব্রিজ সংলগ্ন ভেমটিয়া গেট বাজারে এক বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল সাত-সাতটি দোকান। সাতটি পরিবারের অন্নসংস্থানের একমাত্র পথ নিমেষের আগুনে ছাই হয়ে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন পথচারী ভেমটিয়া গেট বাজারের একটি দোকানে আগুনের শিখা দেখতে পান। দোকানগুলি মূলত কাঠ এবং টিনের তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত পার্শ্ববর্তী দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীদের চিৎকার এবং আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে প্রাথমিক ভাবে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি দমকল কেন্দ্রের একটি ইঞ্জিন। ছুটে আসেন আতঙ্কিত দোকান মালিকরাও। দমকল কর্মীদের প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে যায় সাতটি দোকান। আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলির মধ্যে ছিল মুদিখানা,  সেলুন, দর্জির দোকান, ফাস্ট ফুডের দোকান।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মজিবুল রহমান, রতিষ বর্মন, জহিরুল ইসলামদের দাবি, আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে দোকান থেকে কোনো সরঞ্জাম বের করার সুযোগ মেলেনি। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। সংসার চালানোর একমাত্র সম্বলটুকু হারিয়ে বাজারের ওপর মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। দোকান মালিক সুরেন রায় কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আগুনের খবর পেয়েই ছুটে এসেছিলাম, কিন্তু এসে দেখি সব শেষ। এই দোকান থেকেই যা আয় হতো তা দিয়েই সংসার চলত। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে।” স্থানীয়দের দাবি, সর্বস্ব হারানো এই ছোট ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই এলাকায় পৌঁছায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। কীভাবে এই বিধ্বংসী আগুন লাগল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment