Bangladesh

ক্ষমতা বদলেছে , কাটেনি সংকট জনমনে বাড়ছে হতাশা, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান, ঢাকা 

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পর ক্ষমতার পালাবদল, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ আসছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের একাংশ। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে উৎপাদন চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। শ্রমিক সংগঠনগুলোর ভাষ্য, গার্মেন্টস সহ অনেক মিল কলকারখানা  বন্ধ হওয়া ও উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। যদিও সরকার বলছে, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মি: হাতেম এই প্রতিবেদককে জানান, তাদের বহু মিল বন্ধ হয়ে গেছে। চলমান যেগুলো আছে সেগুলোর মালিকদের মধ্যেও হতাশা  বিরাজ করছে। 
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি ও খুনের অভিযোগ বাড়ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চলছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান, বাজার কিংবা জনসমাগমস্থলে আলোচনায় উঠে আসছে আগের ও বর্তমান সময়ের তুলনা। কেউ বলছেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। আবার অন্যরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সেই সময়েও মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং সুশাসন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। ফলে জনমতের চিত্র একরৈখিক নয়; বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নে পার্থক্য রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। দলীয় সূত্রের দাবি, তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, জনদুর্ভোগ এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক বছর পর দেশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; বরং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ জনজীবন। এসব প্রশ্নের কার্যকর সমাধানই শেষ পর্যন্ত জনগণের আস্থা নির্ধারণ করবে। আর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য সেই চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Comments :0

Login to leave a comment