এসআইআর-এ নাম বাদ পড়তে এবার আরেকজনের মৃত্যু হল জলপাইগুড়িতে। জলপাইগুড়ি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশ্রম পাড়া মোড়ের ছোট্ট মোমোর দোকানি গৌরাঙ্গ দে। ১০ নাম্বার ওয়ার্ডের এলআইসির হাউজিং এর বিপরীতে ভাড়া থাকতেন। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্রমে ক্রমে তার ডাক পড়ছিল। তিনি তার কাছে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বারবার দেখালেও নির্বাচন কমিশনের মনঃপূত হয়নি বলে অভিযোগ। শেষমেষ ২৮ ফেব্রুয়ার প্রকাশিত ফাইনাল ভোটার লিস্টে দেখা যায় তার নাম বাদ পড়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি কিভাবে নাম তোলা যায় তার জন্য তিনি এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সমস্যার সমাধান না হয় ২ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। উৎসবের দিনে এই মর্মান্তিক ঘটনা জলপাইগুড়ি জেলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। গোবিন্দ কর্মকার এর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার কথা জানন সিপিআই(এম) জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র, পার্টির জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কৌশিক ভট্টাচার্য, শিক্ষক নেতা কৌশিক গোস্বামী, প্রতিবেশী পার্টি নেতা অসীম সরকার সহ অন্যান্যরা।
কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক যেভাবে বারবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় ওনাকে ডাকা হয়েছিল উনি ওনার কাছে থাকা সমস্ত রকম কাগজপত্র জমাও করেছিলেন কিন্তু তারপরও নির্বাচন কমিশন তার নাম বাদ দিয়েছে। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তলন্তের দাবি রাখছি এবং প্রথম থেকেই সিপিআই(এম) সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম যাতে তালিকাভুক্ত থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে বিশেষত নিম্ন আয়ের, খেটে খাওয়া মানুষদের এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
সিপিআইএমের দাবি, বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে অবিলম্বে তা তালিকাভুক্ত করতে হবে। কোন বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশনের কোন এক্তিয়ার নেই কে নাগরিক কে নাগরিক না বিচার করার। অবিলম্বে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত না করলে লড়াই হবে। ৬০ লক্ষাধিক নামকে বিবেচনাীন রেখে ভোট করা যাবে না।
গৌরাঙ্গ দে'র পরিবারের স্ত্রী ও এক ছেলে ও মেয়ে বর্তমান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আত্মহত্যা করায় তারা কি ভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকবেন তা এখনো ভেবেই উঠতে পারছেন না তারা।
Comments :0