তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬। শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে চতুর্থ দিনের মতো জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা খালেক সরদার, যিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, শনিবার মারা যান। তার মৃত্যুর পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। এখনও ১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধারকারী দলের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে ক্যামেরা বসিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, যেসব মোবাইল ফোন এখনও সক্রিয় রয়েছে, সেগুলির অবস্থান চিহ্নিত করতে মোবাইল টাওয়ারের তথ্যও ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাছে প্রথম অগ্রাধিকার উদ্ধার কাজ সম্পূর্ণ করা। ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যতক্ষণ না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে ভিতরে আর কেউ আটকে নেই, ততক্ষণ বড় আকারে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করা হবে না।
শুক্রবার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর আবেদনে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ভারতীয় রেল। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া বাঁকানো লোহার বিশাল কাঠামো কেটে সরানোর কাজে রেলের বিশেষজ্ঞ দল সহায়তা করছে, যাতে অনুসন্ধান অভিযান আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
গত বুধবার দুপুরে নির্মীয়মাণ ওই গুদামটি আচমকাই ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে মূল ঠিকাদারের দেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে তার নামও ছিল।
এদিকে, কী কারণে বহুতল গুদামটি ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে পুলিশ। নির্মাণে কোনও গাফিলতি বা নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Taratala
তারাতলা : গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত বেড়ে ১৬
×
Comments :0