Jalpaiguri potato growers

খরচ ১৮ টাকা হলেও আলুর দর ৪-৫ টাকা, কাল জলপাইগুড়িতে অবরোধের ডাক কিসান মোর্চার

জেলা

দীপশুভ্র সান্যাল 

ফলন ভালো হলেও আলু ওঠার আগে থেকেই বাজারে ধস। উত্তরবঙ্গের আলুচাষে ফের গভীর সঙ্কট। উৎপাদন ও সংরক্ষণ পরিকাঠামোর বিস্তর ফারাক, রপ্তানিতে স্থবিরতা এবং সুস্পষ্ট সরকারি ক্রয় নীতির না থাকায় কৃষকরা বড় লোকসানের মুখে। 
ন্যায্য সহায়ক মূল্য (এমএসপি) ঘোষণা ও সরাসরি সরকারের থেকে আলু কেনার দাবিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, সদর ব্লকের ৭৩ মোড় এবং ধূপগুড়ির জলঢাকা ব্রিজে পথ অবরোধের ডাক দিয়েছে সারা ভারত কৃষকসভা ও সংযুক্ত কিসান মোর্চা। 
সারা ভারত কৃষকসভার নেতা প্রাণগোপাল ভাওয়াল বলেন, “উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ১৪ টাকার নিচে নামছে না। অথচ কৃষককে ৪–৫ টাকায় আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। অবিলম্বে ১৪ টাকা সহায়ক মূল্য ঘোষণা করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনতে হবে।” 
বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানপাড়া এলাকার কৃষক সাধন বর্মন, মানু মোহাম্মদ ও সাত্তার আলির বক্তব্য, এক বিঘা জমিতে আলু চাষে ৩০–৩৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কৃষক নেতা ও আলুচাষি ক্ষতিরুল ইসলাম জানান, বীজের দাম ১৬–১৮ হাজার টাকা। তার ওপর সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে ব্যয় রয়েছে। উপরন্তু খরা–অতিবৃষ্টি রয়েছে। সেচে পাম্পসেটের জন্য ডিজেল বা বিদ্যুৎ বাবদ খরচের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। 
জলপাইগুড়ি সদর, ময়নাগুড়ি, রাজগঞ্জ ও ধূপগুড়িতে মূলত পোখরাজ, জ্যোতি, হল্যান্ড ও চিপসোনা জাতের আলু চাষ হয়। পোখরাজ দীর্ঘদিন হিমঘরে রাখা যায় না, দ্রুত বিক্রি করতে হয়। মার্চের শুরুতে জ্যোতি ও হল্যান্ড বাজারে এলে জোগান আরও বাড়বে। কৃষকদের দাম কমার আশঙ্কা তীব্র। কৃষি দপ্তরের হিসাবে উত্তরবঙ্গে এ বছর ফলন ৪৮ লক্ষ টন ছাড়াতে পারে, অথচ ৯৭টি হিমঘরের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১৮ লক্ষ টন। হিমঘরে পরিকাঠামোর এই ঘাটতিই বাজারে অতিরিক্ত জোগান তৈরি করে দরপতন ঘটাচ্ছে। অতীতে কোল্ড স্টোর থেকে ৫০ পয়সা কেজি দরে আলু বেরোনোর নজির রয়েছে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও চাষি খরচও তুলতে পারছেন না; ভোক্তাদেরও সারা বছর চড়া দাম গুনতে হচ্ছে। 
দেশে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও গুজরাট আলু উৎপাদনে শীর্ষে। উত্তর প্রদেশ পূর্ব ভারতের বড় বাজার দখল করেছে। নেপাল ও বাংলাদেশে রপ্তানি কার্যত বন্ধ। ফলে বাংলার বাজার আরও সঙ্কুচিত।
শিল্পবিহীন উত্তরবঙ্গে চা, আলুচাষই ভরসা। বামপন্থী কৃষক সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের দাবি হলো এলাকায় আলু প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তুলে চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, স্টার্চ, আলু ফ্লেক্স ও অন্যান্য ‘ভ্যালু-অ্যাডেড‘ পণ্য উৎপাদন করতে হবে। কোচবিহারের হলদিবাড়ি থেকে জলপাইগুড়ির মন্ডলঘাট, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়িতে বহু পরিত্যক্ত জমিতে এ শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব বলে মত কৃষকদের। 
অভিযোগ, ভোটের সময়ে সরকারে আসীন তৃণমূল আশ্বাস দিলেও বাস্তবে উদ্যোগ নেই। এলাকার কৃষকদের ভাঙছে ধৈর্য্যের বাঁধ। সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন অনিবার্য বলে জানিয়েছেন কৃষকনেতারা।

Comments :0

Login to leave a comment