কালনার দোর্দন্ডপ্রতাপ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করে নাদানঘাট থানায় রাখা হয়। সকালে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় কালনা থানায়। তারপর কালনা মহকুমা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর কালনা আদালতে পাঠানো হয়। কালনা থানার পুলিশ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চরম অভিযোগের বিভিন্ন ধারায় মামলা দিয়ে বিচারকের নিকট দশ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করে। কালনা এসিজিএম আদালতের বিচারক অপর্ণা দে পুলিশের আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রাক্তন বিধায়ককে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য গত ৩১ মে গ্রেপ্তার হন তৃণমূলের কালনা ২ ব্লক সভাপতি প্রণব রায়। সিঙ্গারকোনে অবস্থিত তার ব্লক তৃণমূল কার্যালয় থেকে কালনা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ হানায় বিপুল পরিমাণ সরকারী ত্রান সামগ্রী উদ্ধার হয়। বাজেয়াপ্ত করার সেই সামগ্রিকগুলির মধ্যে ছিল প্রচুর ত্রিপল, প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার, ট্রাই সাইকেল, ক্র্যাচ, অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রভৃতি। সেই গ্রেপ্তার হওয়া প্রণব রায়কে নিয়ে কালনা থানার পুলিশ সোমবার রাতে দেবপ্রসাদ বাগের বাড়ির সামনে চলে আসে। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ সেখানে হাজির হয়। একটা জনরোষের সৃষ্টি হয়। সেই জনরোষ চলে রাত তিনটে পর্যন্ত। তারপরেই প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। স্থানীয়দের বক্তব্য, দেবপ্রসাদ বাগ প্রথম জীবনে রেডিও মেরামতের মিস্ত্রি ছিলেন। তার একটা রেডিও মেরামতের দোকানও ছিল। তারপর কালনা পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হন। পরে ওই পৌরসভার চেয়ারম্যান হন। শেষে কালনা বিধানসভার বিধায়ক নির্বাচিত হন। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় বিরাট সম্পত্তির মালিক হয়ে যান তিনি। এমনকি তার বসতবাড়িটা রাজপ্রাসাদের মতো। ছাদের উপর সুইমিং পুল, স্নানের জলের জন্য পরিশ্রুত জলের প্লান্ট বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এদিন কালনা হাসপাতালে যখন দেবপ্রসাদ বাগকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তখন সেখানে মহিলাদের বিক্ষোভ হয়। তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। কালনা থানা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। কোমরে দড়িয়ে পড়িয়ে তার কলার ধরে টানতে টানতে পুলিশকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। একই অবস্থা হয় নাদন ঘাট থানাতেও। আদালত চত্বরেও মানুষকে চোর চোর স্লোগান দিতে থাকেন।
TMC Arrested
দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
×
Comments :0