আলিপুরদুয়ারের পর এবার জলপাইগুড়ির মালবাজার। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই গেরুয়া শিবিরের আদি ও নব্য সংঘাত এবার আছড়ে পড়ল রাজপথে। ‘বহিরাগত’ ও ‘দলবদলু’ প্রার্থী মানা হবে না— এই দাবিতে বৃহস্পতিবার মালবাজারে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালালেন ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্বকে।
এদিন মালবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে শুক্রা মুন্ডার নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের জন্য পুরনো দিনে লড়াই করা ভূমিপুত্রদের গুরুত্ব না দিয়ে বারবার ‘দলবদলু’ ও ‘বহিরাগত’দের সাধারণ কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
উত্তেজিত কর্মীরা পার্টি অফিসের ভেতরে ঢুকে চেয়ার, টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। অফিসের বাইরে থাকা বিজেপির ফেস্টুন ও পোস্টার ছিঁড়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের প্রধান নিশানা প্রার্থী শুক্রা মুন্ডা। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূলের টিকিটে নাগরাকাটা থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। পুরনো বিজেপি কর্মীদের দাবি, যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে একসময় দলবদল করেছে, তাদের প্রার্থী হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি মালবাজার ও জেলা স্তরের বিজেপি নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন আর শুধু অন্দরের বিষয় নয়। আলিপুরদুয়ারের পর মালবাজারের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ সামলাতে ব্যর্থ নেতৃত্ব।
বামপন্থীদের দাবি, মানুষের স্বার্থে লড়ার বদলে পদ ও প্রার্থী হওয়া নিয়ে দক্ষিণপন্থী দলগুলোর এই লড়াই আসলে ক্ষমতার নির্লজ্জ আস্ফালন। ‘দলবদলু’দের ওপর ভরসা করে বিজেপি যে কতটা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, মালবাজারের ভাঙচুর তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।
Comments :0