ঘৃণা ভাষণের পরও ‘দণ্ডনীয় অপরাধ‘ খুঁজে পায়নি সুপ্রিম কোর্ট। অথচ দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পিছনে বিজেপি’র দুই নেতা অনুরাগ ঠাকুর এবং প্রবেশ ভার্মার বিদ্বেষী ভাষণকে দায়ী করেছেন বহু নাগরিক। এবার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত।
গত ২৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ বিজেপি’র দুই নেতাকে কার্যত নির্দোষ ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে বলা হয়, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ভাষণ দেওয়া হয়নি। একে ঘৃণা ভাষণ বলা যাবে না। ওই ভাষণকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবেও গণ্য করা যাবে না।
কারাত তাঁর আবেদনে বলেছেন যে আদালত ঘৃণা ভাষণ বিবেচনায় নজর দিয়েছে। কিন্তু মামলার মূল বিষয় ছিল এফআইআর দায়ের করার জন্য ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১২৬ ধারা অনুযায়ী আগাম অনুমোদন প্রয়োজন কিনা তা জানানো। কারণ দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে আবার সেই বিষয়টিকেই বিবেচনা করা হয়েছে। যার বিরুদ্ধে আবেদন জমা পড়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। ফলে রায়দান প্রক্রিয়ায় গলদ থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২০-তে দিল্লিতে নির্বাচনের আগে পরপর ঘৃণা ভাষণ দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। সেই সময় সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে শাহিনবাগে চলছিল অবস্থান। প্রতিবাদীদের লক্ষ্য করে অনুরাগ বলেছিলেন, ‘দেশ কি গদ্দারো কো, গোলি মারো শালো কো’। আর প্রকাশ্য জনসভায় প্রবেশ ভার্মা বলেছিলেন, ‘এরা অনুপ্রবেশকারী। এদের হাতে আপনার বাড়ির মহিলারা নিরাপদ নয়। এরা ঘরে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করতে পারে।’
দিল্লি নির্বাচনে বিজেপি হেরে যায়। কিন্তু ফল বেরনোর কিছু পরই সাম্প্রদায়িক হিংসা ভয়াবহ চেহারা নেয়। রাজধানী শহরের পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক চালায়। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দিল্লি পুলিশকে দিয়ে একের পর এক এনআরসি-বিরোধী প্রতিবাদীদের ধরপাকড় করে। জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের কাউকে কার্যত ছোঁয়া হয়নি।
কারাতের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ২০২০-তে বলেছিল যে এই দুই ভাষণই নির্বাচনী আচরণ বিধি ভেঙেছে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের কারণও হতে পারে এমন ভাষণ। বিজেপি’র ‘স্টার ক্যামপেনার‘ তালিকা থেকেও দু’জনকে বাদও দেওয়া হয়।
কারাত সুপ্রিম কোর্টে বলেছেন, সব পক্ষকে ডেকে বিশদে শুনানি হোক। তার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হোক দণ্ডনীয় অপরাধ কিনা। এফআইআর করার আগে অনুমোদনের বিষয়টিও বিবেচিত হোক।
উল্লেখ্য, বিচার আদালত, দিল্লি হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে অভিযুক্ত দুই বিজেপি নেতাকে ডেকে বিশদ শুনানি হয়নি। দিল্লি পুলিশ তো বটেই, বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও বিভিন্ন স্তরে প্রশ্ন রয়েছে গত কয়েকবছর ধরেই।
Brinda Karat SC
সেই ‘গোলি মারো‘ ভাষণও দণ্ডনীয় নয়! সুপ্রিম কোর্টে বৃন্দা কারাত
×
Comments :0