PBSU Kolkata

ঘর ভাঙতে এলে হবে লড়াই, ঘোষণা কলকাতার বস্তিবাসীদের সমাবেশে

কলকাতা

বাঁচতে হলে লড়াই করতে হবে। রুখে দাঁড়াতেই হবে। বিজেপি চায় হকার তুলে দিতে। চায় বস্তিবাসীদের তুলে দিতে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে। 
মঙ্গলবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সমাবেশে একথাই বললেন কলকাতা কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলা কমিটির আহ্বানে কর্পোরেশন অভিযানের ডাক দেওয়া হয় এদিন। কিন্তু মিছিল ও সমাবেশের অনুমতি পুলিশের তরফে দেওয়া হয়নি। তাই সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের সামনেই এদিনের সমাবেশ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কলকাতা কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির রাজ্য সম্পাদক সুখরঞ্জন দে, রাজ্য সহ-সভাপতি ডাক্তার ফুয়াদ হালিম, কলকাতা জেলা সম্পাদক শিবেন্দু ঘোষ সহ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন আব্দুল রউফ। 


বিনামূল্যে সকল বস্তিবাসীকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ, পুনর্বাসন ছাড়া হকার ও বস্তি উচ্ছেদ নয় এবং অন্নপূর্ণা ভান্ডারসহ সমস্ত প্রকল্পে গরিব মানুষকে যুক্ত করার দাবিতে কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসক মীরা পান্ডের কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে যান তিনজন। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিবেন্দু ঘোষ, অজিত শাসমল ও আবু সুফিয়ান।

 
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "এই রাজ্য সরকার চালাচ্ছে আরএসএস। আরএসএস-এর মূল কথা হলো গরিব মানুষ থাকবে না। তাই হকারদের উপর আক্রমণ। এরপর বস্তিবাসীদের ওপর আক্রমণ নামবে। ঘর ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হবে। এই আরএসএস স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনও ভূমিকা রাখেনি। দেশ তৈরি করেছেন শ্রমজীবী গরীব খেটে খাওয়া মানুষ।’’ 
বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ঘর ভাঙতে এলে একসঙ্গে প্রতিরোধ করবেন। বাঁচার জন্য লড়াই করতে হবে। রুখে দাঁড়াতেই হবে। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে। এই অধিকার আমাদের সংবিধান দিয়েছে।  আদালতে যেমন লড়াই হবে তার সঙ্গে মাঠে ময়দানেও প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে।"
সুখরঞ্জন দে বলেন, "পুনর্বাসন এবং উচ্ছেদ এই দুটি শব্দ এ রাজ্য সরকার বদলের পর বহু চর্চিত। আমাদের সংগঠন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে জন্ম লগ্ন থেকেই। বর্তমানে কলকাতা কর্পোরেশন ভেঙে পড়েছে। মেয়র পদত্যাগ করার পর বোর্ড নেই। প্রশাসক ব্যর্থ হয়েছেন চালাতে। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আক্রমণের মুখে পড়েছে গরিব শ্রমজীবী মানুষরা।’’ 


তিনি আরও বলেন, ‘‘শেষ ১৫ বছরে ঠিকা প্রজাসত্ত্ব আইন পরিবর্তন করে বস্তির চরিত্র বদলে চেষ্টা করেছে তৃণমূল। তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধও হয়েছে। কিন্তু বিজেপি সরকার সরাসরি উচ্ছেদ করে সেই জায়গা কর্পোরেট পুঁজির মালিকের হাতে তুলে দিতে চাইছে। মাথার ছাদ কাড়তে এলে চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে। যে হকারদের পেটে লাথি পড়েছে তাঁরাই কলকাতার বিভিন্ন বস্তিতে থাকেন। প্রথমে যাঁদের রুটি রুজির ওপর আক্রমণ হয়েছে এরপর তাদের বাসস্থান কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করবে সরকার।" 
কলকাতার পৌর কমিশনার তথা প্রশাসককে ডেপুটেশন জমা দিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলা সম্পাদক শীর্ষেন্দু ঘোষ জানিয়েছেন দীর্ঘ টালবাহানার পর প্রশাসক ডেপুটেশন নিতে রাজি হলেও সময় দিয়েছেন খুবই অল্প। তিনি বলেছেন আপনাদের থেকে আমি সাজেশন চাই। কিন্তু যে দাবি আমরা করে এসেছি তা পূরণ হবে কিনা আমরা জানি না। কিন্তু রাস্তার লড়াই চলবে।

Comments :0

Login to leave a comment