Rahul Sankritayan Raniganj

রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি উধাও, তীব্র বিক্ষোভ রানিগঞ্জে

জেলা

লিখেছিলেন ‘ভাগো নেহি, দুনিয়াকো বদলো’। লিখছিলেন ‘ভোলগা থেকে গঙ্গা’। সমাজ সভ্যতার ইতিহাস আসলে শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস, ব্যাখ্যা করেছেন একের পর এক রচনায়। রানিগঞ্জে উধাও হয়েছে সেই রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি।
রানিগঞ্জ মোড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, লেখক, ইতিহাসবিদ, ভাষাবিদ, গবেষক রাহুল সংকৃত্যায়নের মূর্তি ছিল। রহস্যজনকভাবে মূর্তিটি উধাও হয়ে গিয়েছে। গ্রগতিশীল বিভিন্ন অংশই ঘটনার সঙ্গে লেনিন মূর্তি ভাঙার যোগাযোগ দেখতে পাচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ ও জনবাদী লেখক সংঘ রাহুল তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিক্ষোভ দেখান কয়লাঞ্চলের সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিজীবী ও প্রগতিশীল মানুষেরা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে অবিলম্বে তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার ও মূর্তি পুনঃস্থাপনের দাবিতে গর্জে উঠে কয়লাঞ্চলের মানুষ। 
রাহুল সাংকৃত্যায়ন ব্রিটিশ ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিন বছর জেল খাটেন। দেশের কৃষক সভার প্রতিষ্ঠালগ্নে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে কৃষক আন্দোলনকে শক্তিশালী করার কাজ করেছেন।
স্থানীয় মানুষের থেকে জানা গেছে, সিসিটিভি বন্ধ করে রাস্তার আলো নিভিয়ে গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটায়। প্রশাসনের ভূমিকায় উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। এদিন বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন, অভিজিৎ খাঁ, অরুণ পাণ্ডে, কুন্তল চ্যাটার্জি,  বীরযু যাদব, সঞ্জয় প্রামাণিক, হেমন্ত পভকর, ফাল্গুনী চ্যাটার্জি। প্রাক্তন বিধায়ক রুনু দত্ত, লেখক শিল্পী সংঘ জেলা যুগ্ম সম্পাদক অনুপ মিত্র, নাট্যকার নীলাঞ্জন ঘটক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
লেখক শিল্পী সংঘ ও রানিগঞ্জের গণ আন্দোলনের নেতৃত্ব সোমবার রাতেই পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ি ও রানিগঞ্জ থানায় যান। পুলিশ জানায় তারা এবিষয়ে কিছু জানে না। মঙ্গলবার সকালে রানিগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানানো হয় এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
লেখক শিল্পী সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলা যুগ্ম সম্পাদক অনুপ মিত্র জানান, ১৯৯৩ সালে রাহুল সাংকৃত্যায়নের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে রানিগঞ্জে প্রয়াত শ্রমিক নেতা বিবেক চৌধুরীর নেতৃত্বে রাহুল সাংকৃত্যায়নের জন্ম শতবার্ষিকী কমিটি রানিগঞ্জ কয়লাঞ্চলে বছরভর নানান কর্মসূচি পালন করে এবং রাহুলের দর্শনকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। তাঁর রচিত 'ভাগো নেহি, দুনিয়া কো বদলো', 'ভোলগা থেকে গঙ্গা' বইগুলির ব্যপক প্রচার করা হয়। রানিগঞ্জের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল "রাহুল সাংকৃত্যায়ন মার্গ।" ১৯৯৪ সালে ৯ এপ্রিল রাহুল সাংকৃত্যায়নের জন্মদিনে রানিগঞ্জ জাতীয় সড়কের পাশে মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন তৎকালীন  রাজ্যের মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। এই অনুষ্ঠানে এই রাহুল সাংকৃত্যায়নের স্ত্রী কমলা সাংকৃত্যায়ন, পুত্র জেতা ও কন্যা জয়া সাংকৃত্যায়ন উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশের মধ্যে রানিগঞ্জে রাহুল সাংকৃত্যায়নের প্রথম পূর্ণাবয়ব  মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ রাজ্য সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। গণ আন্দোলনের নেতা পার্থ মুখার্জি পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানান। সিআইটিইউ রাজ্য কাউন্সিল অধিবেশনে রানিগঞ্জে রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি ভাঙার ঘটনার নিন্দা করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করে গণ আন্দোলনের নেতা সঞ্জয় প্রামাণিক সিহারশোল পার্টি অফিসে এলে এলাকার কুড়ি পঁচিশ জনের বিজেপি দুষ্কৃতী তাঁকে শাসিয়েছে। বলা হয়, বিজেপি'র বিরুদ্ধে কোনও কথা বলা যাবে না। এসময় খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ছুটে এলে বিজেপি আশ্রিত গুণ্ডাবাহিনী পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। আগামীকাল প্রতিবাদ জানিয়ে সিহারশোল এলাকাজুড়ে মিছিল হবে।

Comments :0

Login to leave a comment