কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করেছে তপসিয়ায় নির্মাণ ভাঙার কাজে। আদালতের সেই রায়ের প্রতিলিপি নিয়ে শুক্রবার বিকালেই তপসিয়ার ঘটনাস্থলে হাজির হন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ, সিপিআই(এম) নেত্রী দীপু দাস সহ পার্টির নেতাকর্মীরা।
তাঁরা সাধারণ মানুষকে রায়ের কপি দিয়ে বলেন যে প্রশাসন অন্যায় করলে এই প্রতিলিপি দেখাতে।
সিপিআই (এম)’র সুস্পষ্ট বক্তব্য, পশ্চিমবাংলার মাটিতে বুলডোজার রাজ আমদানি করা চলবে না। সিপিআই(এম) রাস্তায় দাঁড়িয়ে এর প্রতিরোধ করবে।
তিলজলা থানা এলাকার তপসিয়ায় অবৈধ নির্মাণের নামে রাতারাতি বুলডোজার চালিয়ে সংখ্যালঘু সমাজের মানুষের নিরাপত্তা আর বাসস্থান কেড়ে নিতে চাইছিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ‘ব্যবস্থা গ্রহণের’ বক্তব্যের পরই এলাকায় যায় বুলডোজার।
এদিন কলাকাত হাইকোর্ট স্পষ্ট বলেছে, আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বর না করে কেবল প্রশাসনের নির্দেশে বাড়ি ভাঙা যাবে না। আদালতে বাসিন্দারা জানান যে তাঁদের কোনও আইনি নোটিশ না দিয়ে বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়ে ভাঙা হয়েছে বাড়ি। বুলৃোজার, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ চলে গিয়েছে এলাকায়।
বিচারপতি রাজা বসু রায়চৌধুরী এদিন বলেছেন যে অবৈধ নির্মাণের বিষয়ে আগের সরকার ব্যবস্থা নেয়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার এই এলাকায় একটি চামড়ার কারখানায় অগ্নিকান্ডে দু’জনের মৃত্যু হয়। তারপর বাড়ি ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত বলেছে, যেখানে ভাঙা হয়েছে সেখান থেকে আপাতত ব্যবসায়িক কাজ চালানো যাবে না। কেউ থাকতে পারবেন না। এখনই পুনর্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না। তবে বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙা এখন স্থগিত রাখতে হবে। বাড়ির মালিকরা বলেছেন যে তাঁদের হাতে বৈধ নথি রয়েছে। কেবল দমকলের -নো অবজেকশন’ শংসাপত্র নেই। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ মে। এদিন তপসিয়ায় আতঙ্কিত এলাকায় সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ পৌঁছান। তাঁরা বলেন যে বামপন্থীরা আদালতে গিয়ে বুলডোজার রাজে স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছেন। বিচারপতি পরিষ্কার নির্দেশ দেন, বুলডোজার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে আক্রমণ চলবে না। বেআইনি নির্মাণ হলেও তা আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে। যত্রতত্র বুলডোজার চালানো যাবে না।
এদিন যাদবপুরে একটি জনসভায় সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত বলেন, তৃণমূলের ওপর ক্ষোভের কারণে বিজেপি-কে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছেন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষ। কিন্তু রাজ্যের সরকারে আসীন হয়ে ধর্মীয় বিভাজনের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ মেনে নেওয়া যাবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে বড়বাজারের মতো এলাকায় কি রাজ্য সরকার অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার পাঠিয়েছে? তিনিও বুলডোজার রাজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর অবৈধ নির্মাণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তিলজলা, রপসিয়ার মতো সংখ্যালঘু এলাকাগুলিরই উল্লেখ করেছিলেন। বিজেপি সরকারের এমন দৃষ্টিভঙ্গিতেই উঠেছে প্রশ্ন।
Tomsia Bulldozer CPI-M
বাড়ি ভাঙায় স্থগিতাদেশের কপি নিয়ে তপসিয়ায় সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ
আদালতের রায়ের প্রতিলিপি নিয়ে তপসিয়ায় শতরূপ ঘোষ, দীপু দাস সহ সিপিআই(এম) কর্মীরা।
×
Comments :0